আসামে বন্যায় মৃত্যু বেড়ে ৮২, জলবন্দি ৪৭ লাখ মানুষ, জেনেনিন সর্বশেষ পরিস্থিতি

আসাম, মেঘালয়, অরুণাচলের পাশাপাশি ভারি বৃষ্টিতে প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন অঞ্চলও। বন্যা ও ভূমিধসে রাজ্যগুলোতে প্রাণহানি বেড়ে হয়েছে ১৩১ জনে।
আসামে বন্যা পরিস্থিতির অবনতির পাশাপাশি লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে প্রাণহানির সংখ্যাও। সোমবার নতুন করে রাজ্যটিতে ১০জনের মৃত্যু হয়েছে। এই নিয়ে আসামে বৃষ্টি, বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়ালো ৮১ জনে। নিখোঁজ রয়েছেন বেশ কয়েকজন। রাজ্যটিতে জলবন্দি ৪৭ লাখ মানুষ।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ মূল্যায়ন করতে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদল আসাম ও মেঘালয়ের বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করবে।

মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ও কনরাড সাংমার সঙ্গে আলাপ করার পরে তিনি জানান, কেন্দ্র এই অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে দৃঢ়ভাবে পাশে দাঁড়িয়েছে।

আসাম রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এএসডিএমএ) এর তথ্য অনুযায়ী, এ বছর মে ও জুন মাসে যে পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে, তা বিগত বছরগুলোর তুলনায় স্বাভাবিক গড়ের চেয়ে বেশি।

আসাম দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এএসডিএমএ) জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহে ৪৭ লাখেরও বেশি মানুষ বন্যায় জলবন্দি হয়ে আছেন। আসাম রাজ্যের ৩৬টি জেলার মধ্যে ৩২টিই বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মাকে ফোন করে বন্যা পরিস্থিতির খোঁজ-খবর নিয়েছেন।

এএসডিএমএ আরও জানিয়েছে, দাররাং জেলায় তিন জন, নগাঁওয়ে দুজন এবং কাছাড়, দিব্রুগড়, হাইলাকান্দি, হোজাই, কামরূপ ও লখিমপুরে এক জন করে মারা গেছেন। এদের মধ্যে দুজন পুলিশও রয়েছেন যাঁরা নগাঁওয়ে জলবন্দি মানুষকে উদ্ধার করতে গিয়ে বন্যার স্রোতে ভেসে গেছেন। এ ছাড়া, উদালগুড়ি ও কামরূপে দুজন এবং কাছাড়, দারাং ও লখিমপুরে এক জন করে নিখোঁজ রয়েছেন।

সোমবার হিমন্ত শর্মা টুইটার পোস্টে বলেছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বন্যা পরিস্থিতির খবর নিতে সকাল থেকে দুবার ফোন করেছেন। বন্যার ক্ষয়ক্ষতি জানার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শিগগিরই এক দল কর্মকর্তাকে পাঠাবে।

এর আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আসামের মুখ্যমন্ত্রীকে ফোন করে বন্যা পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিয়েছেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন।

গত এক সপ্তাহের প্রলয়ংকরী বন্যায় আসামের ৫ হাজার ৪২৪টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এসব গ্রামের অন্তত ২ লাখ ৩১ হাজার ৮১৯ জন মানুষকে ৮১০টি আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *