BigNews: পুরীর মন্দিরের রত্নভাণ্ডার কি সত্যিই খুলবে? হাইকোর্টের নির্দেশে তৈরী হলো সম্ভাবনা

২০২৪ সালের রথযাত্রার সময় রত্নভাণ্ডার খোলার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ওডিশা হাইকোর্টের নির্দেশে সুপ্রিম কোর্ট বা ওডিশা হাইকোর্টের কোনও অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে দু’মাসের মধ্যে একটি হাই-পাওয়ার কমিটি গঠন করতে হবে। সেই কমিটি জগন্নাথ মন্দির ম্যানেজিং কমিটির সঙ্গে সব রকম সহযোগিতা করবে ওই রত্নভাণ্ডার খোলার ব্যাপারে।
সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী বছর, ২০২৪-এ জগন্নাথদেবের রথযাত্রার সময়ে এই কাজ হতে পারে। কারণ, অন্য সময়ে ওই কাজ হলে পুজোআচ্চা এবং দেব দর্শনে সমস্যা হতে পারে। রত্নভাণ্ডার সত্যি সত্যিই খোলা হলে প্রায় পাঁচ দশক পর জানা যাবে জগন্নাথ মন্দির ঠিক কতটা সম্পদশালী।
দেশের অন্য বড় মন্দিরগুলোয় সম্পদের হিসেব নিয়মিত ভাবে রাখা হলেও গত শতাব্দীর সাতের দশকের পরে আর পুরী মন্দিরের রত্নভাণ্ডার খোলা হয়নি। যদিও মন্দিরের বিধি অনুযায়ী, তিন বছর পরপর ওই রত্নভাণ্ডার খুলে সম্পদের হিসেব করার কথা। কেবল হিরে, সোনা, রুপো বা মুক্তোর হিসেব নয়, যে বেদীতে জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রাকে বসানো, তার গা ঘেঁষে থাকা থাকা রত্নভাণ্ডারের ভিতরের দেওয়ালের সংস্কারেরও কাজ এই প্রথম করা হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
পুরাতত্ত্ব বিভাগের বিশেষজ্ঞরা মন্দির কমিটিকে সুপারিশ করেছেন, আপাতত রত্নভাণ্ডারের ভিতরে না-ঢুকে বাইরে থেকে ভিতরের দেওয়ালের হাল-হকিকত জানা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে বারাণসীর জ্ঞানবাপীতে যে ভাবে লেজ়ার স্ক্যানিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে, সেই ভাবে পুরীতেও কাজ করতে হবে বলে জানিয়েছে জগন্নাথের মন্দির সংরক্ষণের দায়িত্বে থাকা আকিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (এএসআই)।
এর আগে, ১৯৮৪ সালে একবার ওই রত্নভাণ্ডার খুলতে গিয়ে এএসআই বিশেষজ্ঞরা ভিতর থেকে কোনও এক ভয়াল শব্দ পেয়ে শেষ পর্যন্ত রণে ভঙ্গ দিয়েছিলেন। তাই, এ বার শেষ পর্যন্ত কী হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে অনেকের মনে।
**ওডিশা হাইকোর্টের জনস্বার্থ মামলায় প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ রত্নভাণ্ডার খোলার আবেদনে যৌক্তিকতা রয়েছে বলে মনে করলেও এই ব্যাপারে সরাসরি কোনও নির্দেশ দেয়নি।