ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা গায়েব মহিলার! নেপথ্যে সেই বায়োমেট্রিক ক্লোনিং?

রাজ্যে বায়োমেট্রিক জালিয়াতির ঘটনা বেড়েই চলছে। সাইবার প্রতারকরা গ্রাহকদের বায়োমেট্রিক তথ্য হাতিয়ে নিয়ে তাঁদের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
সম্প্রতি হাওড়া জেলার বহিরা বরডাঙার দুই বাসিন্দার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারকরা। ঘটনায় রীতিমতো আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বহিরা বরডাঙার বাসিন্দা শেখ মমতাজের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্ট রয়েছে। গত ১৭ তারিখ তিনি টাকা তুলতে গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্রে গেলে জানতে পারেন তাঁর অ্যাকাউন্টে কোনও টাকা নেই। তাঁর অ্যাকাউন্টে থাকা সব টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয় গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্রের তরফে।
শেখ মমতাজের ছেলে শেখ ফরিদুল বলেন, “গত ৪ সেপ্টেম্বর অ্যাকাউন্ট থেকে ৯ হাজার টাকা তোলা হয়েছিল। তারপর ১৭ সেপ্টেম্বর গ্রাহক সেবা কেন্দ্রে টাকা তুলে যান মা। টাকা তুলতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন তাঁর অ্যাকাউন্টে কোনও টাকা নেই। এক বছর আগে একটি জমি রেজিস্ট্রির জন্য উলুবেড়িয়া রেজিস্ট্রি অফিসে মা আঙুলের ছাপ দিয়েছিলেন। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় স্থানীয় থানার পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।”
আরেকজন প্রতারণার শিকার শেখ সরিফুল। তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকেও প্রায় ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রতারকরা কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করে এই জালিয়াতি করে। প্রথমে তারা গ্রাহকের বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করে। এরপর তারা সেই তথ্য ব্যবহার করে একটি ভুয়া অ্যাকাউন্ট খোলে। এরপর সেই অ্যাকাউন্টে গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা ট্রান্সফার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, এই ধরনের জালিয়াতির হাত থেকে বাঁচতে গ্রাহকদের সতর্ক থাকা জরুরি। ব্যাঙ্ক বা গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্রে টাকা তোলার সময় বায়োমেট্রিক তথ্য প্রদান করার সময় সতর্ক থাকতে হবে।
এছাড়াও, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নিয়মিত নজর রাখতে হবে। যদি কোনো অপ্রত্যাশিত লেনদেন দেখা যায় তাহলে তা অবিলম্বে ব্যাঙ্ককে জানাতে হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, এই ধরনের জালিয়াতি রোধে তারা কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে।