বাম আমলে তৈরি সরকারি হাসপাতাল যেন ভুতের বাড়ি! স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে শুরু রাজনৈতিক বিতর্ক

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে রাজ্যের সরকারি হাসপাতালের পরিষেবার উন্নতির জন্য প্রচুর অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। তবে, দুর্গাপুরের একটি মাতৃসদন হাসপাতালের বেহাল দশায় এলাকাবাসীরা ক্ষুব্ধ।
দুর্গাপুর পুরসভার ঝাঁ-চকচকে মাতৃসদন হাসপাতালে চিকিৎসার যাবতীয় পরিকাঠামো থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসক, প্যাথলজিস্ট, নার্স সহ অধিকাংশ স্বাস্থ্যকর্মীই নেই বহুবছর ধরে। ফলে, হাসপাতালটি এখন ভূত বাংলায় পরিণত হয়েছে।
হাসপাতালের স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতল ওই বিশাল আকারের হাসপাতালে এক্সরে মেশিন, আল্ট্রাসোনোগ্রাফি মেশিন, প্যাথোলজি ল্যাব, অপারেশন থিয়েটার, লেবার রুম সহ অত্যাধুনিক সুযোগ সুবিধা রয়েছে। কিন্তু অব্যবহারের কারণে দিনের পর দিন তা অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে। বর্তমানে এই হাসপাতালে কেবল চারজন স্বাস্থ্য কর্মী, চারজন নিরাপত্তারক্ষী ও তিনজন সাফাইকর্মী রয়েছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, পুর প্রশাসনের উদাসীনতার কারণে হাসপাতালটি ভূত বাংলোতে পরিণত হয়েছে। স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এলাকাবাসীরা। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে ফের ওই হাসপাতালটি পুনরুজ্জীবিত করতে হবে।
যদিও দুর্গাপুর পুরসভা কর্তৃপক্ষের দাবি, হাসপাতালটি পুনরুজ্জীবিত করতে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। পুরসভা কর্তৃপক্ষের দাবি, হাসপাতালের হাল ফেরাতে বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে তারা আলোচনা করছেন।
স্থানীয় ও পুরসভা সূত্রে জানা গেছে, দুর্গাপুর ১ নম্বর ওয়ার্ডে পারুলিয়া এলাকায় প্রধান রাস্তার পাশেই রয়েছে ওই মাতৃসদন হাসপাতালটি। বাম আমলে ২০০২ সালে হাসপাতালটির উদ্বোধন করেছিলেন দুর্গাপুর পুরসভার তৎকালীন মেয়র রথীন রায়। দুর্গাপুর শহর ও দুর্গাপুর-ফরিদপুর ব্লকের সীমান্তবর্তী এলাকায় ওই মাতৃসদন হাসপাতাল গড়ে তোলা হয়েছিল। মূলত দরিদ্র মানুষের চিকিৎসার কথা মাথায় রেথে চালু করা হয়েছিল এই হাসপাতাল।
স্থানীয়দের দাবি, একসময় এই হাসপাতালে স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ, মেডিসিন ও হৃদ রোগ বিশেষজ্ঞ সহ প্রায় পাঁচজন চিকিৎসক ছিলেন। নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীও পর্যাপ্ত ছিল। এমনকী এই হাসপাতালে শিশুদের জন্মও হত। বহির্বিভাগেও অনেক রোগী আসতেন। ১০ বছর পরিষেবা পাওয়ার পর ২০১২ সালে তা হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে যায়।