BigNews: পার্থর মতোই স্কুলের ‘মালিক’ মানিকও! আদালতে ফের চাঞ্চল্যকর দাবি ED-র

প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে ইডি। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মতো জেলবন্দি মানিক ভট্টাচার্যেরও একটি স্কুলের মালিকানা রয়েছে। যদিও মানিকের আইনজীবী জানিয়েছেন, যে স্কুলের কথা বলা হচ্ছে সেটি সরকারি স্কুল এবং তা ১০০ বছরের পুরনো।

মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টে নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানি ছিল বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে। শুনানির সময় ইডির আইনজীবী আদালতে জানান, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মতো মানিকেরও একটি স্কুলের হদিশ পাওয়া গিয়েছে। মানিকের আইনজীবী জানিয়েছেন, যে স্কুলের কথা বলা হচ্ছে সেটি সরকারি স্কুল এবং তা ১০০ বছরের পুরনো। মানিকের মালিকাধীন কোনও বেসরকারি স্কুল নেই বলেও আদালতে জানিয়েছেন ইডির আইনজীবী।

এর আগে, মানিককে নিয়োগ দুর্নীতির ‘কিংপিন’ বলে আদালতে দাবি করেছিল ইডি। একাধিকবার জামিনের আবেদন করা সত্ত্বেও তা খারিজ করে দিয়েছে আদালত। এদিন মানিকের আইনজীবী আদালতের কাছে আবেদন করেন, জামিন মামলায় মানিককে আদালতে আসার অনুমতি দেওয়া হোক। মানিকের আইনজীবীর আর্জির পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি ঘোষ বলেন, ‘প্রয়োজনে পরে সেই বিষয়ে ভাবা হবে। আপাতত প্রয়োজন নেই।’ এদিন ইডি তদন্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিচারপতি ঘোষ। ইডির আইনজীবীর উদ্দেশে বিচারপতির প্রশ্ন, ‘দু’সপ্তাহ সময় চাওয়া হয়েছিল। তার মধ্যে কী করেছেন?’ এই মামলার পরবর্তী শুনানি ২৭ সেপ্টেম্বর।

অন্যদিকে, সোমবার নিয়োগ দুর্নীতিকাণ্ডে জেলবন্দি পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে আদালতে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে সিবিআই। হাইকোর্টে সিবিআই জানিয়েছেন প্রাইমারি নিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থর সরাসরি যোগাযোগ ছিল। এমনকী মানিকের নাম উল্লেখ করে আদালতে তাৎপর্য দাবি করেছে সিবিআই। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছেন, মানিক নিয়মিত পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের চেম্বারে যেতেন বলে সিবিআইয়ের হাতে তথ্য রয়েছে।

সোমবার ‘ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার’ সমান দুর্নীতির পর্দাফাঁস করেছিল সিবিআই। সোমবার বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসে পার্থকে নিয়ে আরও এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে সিবিআই। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, নিজের সচিবকে ভয় দেখিয়ে ২০১৪-র নিয়োগ দুর্নীাতির অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নষ্ট করেছে পার্থ। তাঁকে সেই তথ্য মুছে ফেলতে বাধ্য করা হয়েছে।

এই দাবিগুলির প্রতিক্রিয়ায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের আইনজীবী বিকাশ রায় জানিয়েছেন, এই অভিযোগগুলি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি বলেন, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে যে কোনও প্রমাণ না থাকায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি বলেন, পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে দ্রুত জামিন দেওয়া হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *