‘ফ্ল্যাট প্রতারণাকাণ্ড’, ইডি দপ্তরে নুসরাত জাহানকে তলব

গেল আগস্ট মাসের শুরুতে ফ্ল্যাট দেয়ার নামে ২৪ কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূল কংগ্রেসের তারকা সাংসদ ও নায়িকা নুসরাত জাহানের বিরুদ্ধে। যদিও সেসময় জোর গলায় এই অভিনেত্রী বলেছিলেন ‘ইডি আমায় ডাকবে না’…! কিন্তু শেষমেশ দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই এবার ইডি-র দপ্তরে ডাক পড়ল নুসরাতের।

আগামী মঙ্গলবার (১২ সেপ্টেম্বর) সিজিও কমপ্লেক্সে ইডি-র দফতরে হাজিরার নির্দেশ দিতে বলা হয়েছে তাকে। সঙ্গে তলব করা হয়েছে সেভেন সেন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রাইভেট লিমিটেডের ডিরেক্টর রাকেশ সিংহকেও।

সেভেন সেন্সেস ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রাইভেট লিমিটেড নামে একটি সংস্থার অধিকর্তা তথা ডিরেক্টর ছিলেন নুসরাত। একি সংস্থার আরেক ডিরেক্টর ছিলেন রাকেশ সিং। অভিযোগ উঠেছে, ২০১৪ সালে তার সংস্থা ৪২৯ জনের কাছ থেকে ৫ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা করে নিয়েছিল ফ্ল্যাট দেয়ার কথা বলে। প্রায় ৯ বছর কেটে যাওয়ার পর আজও ফ্ল্যাট পাওয়া যায়নি। সেই সময় নাকি নুসরাতের সংস্থা দাবি করেছিল, তিন বছরের মধ্যেই ফ্ল্যাটগুলো হস্তান্তর করা হবে।

এদিকে সময় মতো ফ্ল্যাট না পেয়ে প্রতারিতরা অভিযোগ দায়ের করেছিলেন গড়িয়াহাট থানায়। আলিপুর কোর্টেও এই নিয়ে মামলা দায়ের করাও হয়েছিল। ফ্ল্যাট কিংবা অর্থ কোনোটাই না পেয়ে শেষ পর্যন্ত ইডির কাছে অভিযোগ করেন তারা।

এই অভিযোগ ওঠার পরপরই প্রেসক্লাবে একটি সাংবাদিক সম্মেলন করেছিলেন নুসরাত জাহান। যেখানে তিনি দাবি করেছিলেন, যে সংস্থাকে ঘিরে তাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হচ্ছে, সেই সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে তিনি নিজের ফ্ল্যাট কেনেন। আর তার ঋণ, তিনি সুদ সমেত ফিরিয়েও দেন।

নুসরাতের দাবি, ‘১ কোটি ১৬ লাখ ৩০ হাজার ২৮৫ টাকা’ ঋণ নিয়েছিলেন তিনি। ২০১৭ সালের ৬ মে মাসে যা সুদ সহ ১ কোটি ৪০ লাখ ৭১ হাজার ৯৯৫ টাকা ফেরত দেন কোম্পানিটিকে’। সঙ্গে আরও বলেন, ২০১৭ সালের ১ মার্চ তিনি রিজাইনও করেছিলেন সেই কোম্পানি থেকে।

যদিও নুসরাতের এই দাবিকে অস্বীকৃতি জানান রাকেশ সিং। তার দাবি, সেভেন সেন্সেস ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রাইভেট লিমিটেডের থেকে কোন ঋণই নাকি দেওয়া হয়নি নুসরাতকে। শুধু তাই নয় নুসরাতের বক্তব্যে তিনি হতভম্ব হয়ে গিয়েছেন বলেও জানান। এখন দেখার বিষয় ইডি-র তদন্তে আর কত জলঘোলা হয় গোটা ঘটনার।

সূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস বাংলা

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *