বাজি দুর্ঘটনা: কারখানা নিয়ে গুচ্ছ নির্দেশই সার, সেটিংয়েই শেষ নজরদারি

পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ বাজি কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনায় তৃতীয় মৃত্যুর পর, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিশের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
২০১৫ সালে, জাতীয় পরিবেশ আদালত নির্দেশ দিয়েছিল যে সমস্ত বেআইনি বাজি কারখানা ভেঙে ফেলা উচিত। রাজ্য সরকারও ঘোষণা করেছিল যে তারা এই নির্দেশের বাস্তবায়ন করবে।
২০১৫ সালে, জাতীয় পরিবেশ আদালত নির্দেশ দিয়েছিল যে পশ্চিমবঙ্গে সমস্ত অবৈধ বাজি কারখানা বন্ধ করতে হবে। এই নির্দেশের পর, রাজ্য সরকারও ঘোষণা করেছিল যে তারা সমস্ত অবৈধ বাজি কারখানা বন্ধ করে, নতুন করে ক্লাস্টার তৈরি করে বাজি কারখানা আইনসিদ্ধ করবে।
কিন্তু, এই নির্দেশিকা ও ঘোষণার পরও, পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ বাজি কারখানা বন্ধ করা যায়নি। বরং, এই কারখানাগুলি এখনও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে প্রকাশ্যেই চলছে।
গত মে মাসে, এগরায় একটি অবৈধ বাজি কারখানায় বিস্ফোরণ ঘটে ১০ জনের মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পর, পরিবেশকর্মীরা মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে অবৈধ বাজি কারখানা বন্ধ করার দাবি জানান।
কিন্তু, এগরার বিস্ফোরণের পরও, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে, গত ২৭ আগস্ট, বারাসতে একটি অবৈধ বাজি কারখানায় বিস্ফোরণ ঘটে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়।
এই বিস্ফোরণের পর, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে পুলিশ নজরদারি বাড়ায়। কিন্তু, এই নজরদারি কি যথেষ্ট?
পরিবেশকর্মীদের অভিযোগ, পুলিশের তদন্তের ফলেই দেখা যায় যে, দত্তপুকুর এলাকায় যে অবৈধ বাজি কারখানায় বিস্ফোরণ ঘটেছিল, তা দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের নজরে ছিল। কিন্তু, পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
পরিবেশকর্মীদের প্রশ্ন, “পুলিশ কি জানতে পারে না যে কোথায় অবৈধ বাজি কারখানা রয়েছে? একের পর এক কারখানায় বিস্ফোরণ হলে জানা যায় যে, সেগুলি দীর্ঘদিন প্রকাশ্যেই চলছিল।”
তারা আরও প্রশ্ন তুলছেন, “সবুজ বাজির ক্লাস্টার এখনও তৈরিই হয়নি। তা হলে এ-সব কীসের কারখানা?”
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেতে হলে, রাজ্য সরকার ও পুলিশকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অবৈধ বাজি কারখানা বন্ধ করার জন্য, শুধু নির্দেশিকা জারি করেই হবে না। নজরদারিও জোরদার করতে হবে।
পরিবেশকর্মীরা অভিযোগ করেছেন যে এই নির্দেশের কোনো বাস্তবায়ন হয়নি। তারা বলেছেন যে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অবৈধ বাজি কারখানা এখনও প্রকাশ্যেই চলছে।
গত বছর মে মাসে, এগরার একটি অবৈধ বাজি কারখানায় বিস্ফোরণে ১০ জনের মৃত্যু হয়। এরপর, পরিবেশকর্মীরা মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছিলেন এবং বাজি কারখানায় নজরদারি বাড়ানোর দাবি করেছিলেন।
সোমবার, দত্তপুকুর এলাকায় একটি অবৈধ বাজি কারখানায় আরেকটি বিস্ফোরণে ৮ জনের মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পর, মুখ্যমন্ত্রী পুলিশকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যে তারা অবৈধ বাজি কারখানায় নজরদারি বাড়াতে হবে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, “আমরা অবৈধ বাজি কারখানার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে চাই। পুলিশকে অবশ্যই এই কারখানাগুলি বন্ধ করতে হবে।”
পরিবেশকর্মীরা মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা আশা করছেন যে এই নির্দেশের ফলে অবৈধ বাজি কারখানাগুলি বন্ধ হবে এবং আর কোনো বিস্ফোরণ হবে না।