‘কলকাতা ছাড়াই উচিত হয়নি…’, যাদবপুরকাণ্ডে নাম জড়ানো প্রসঙ্গে মুখ খুললেন ‘আলু’

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেন হোস্টেলে এক ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় অরিত্র মজুমদার ওরফে আলুর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠে এসেছে। অরিত্র এই অভিযোগগুলি অস্বীকার করেছেন এবং ফেসবুকে একটি দীর্ঘ পোস্ট করে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন।
অরিত্র বলেছেন যে তিনি ৯ অগস্ট রাতে যাদবপুরের মেন হোস্টেলে ছিলেন না। তিনি ১০ অগস্ট সকালে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন এবং তারপর রাজধানী এক্সপ্রেসে নয়া দিল্লির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। তিনি সেখান থেকে পরের দিন শ্রীনগরগামী ফ্লাইট ধরেছিলেন এবং কাশ্মীর গ্রেট লেকস ভ্রমণে গিয়েছিলেন। এই যাত্রায় কোথাও মোবাইলের কোনও নেটওয়ার্ক ছিল না। তিনি প্রায় চারমাস আগে ট্রেন ও ফ্লাইটের টিকিট কাটা করেছিলেন।
অরিত্র বলেছেন যে তিনি কোথায় আছেন জানা সত্ত্বেও তাঁর ঘনিষ্ঠ ও পরিচিতর ‘মিথ্যে প্রচার’-এ সায় দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে ‘আলু’। একই সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের একাংশও তাঁর নিশানায় ছিল। অরিত্র লেখেন, ‘একজন ছাত্রের মৃত্যু গিলে নেওয়া যায় না। তার অভিঘাত মারাত্মক। এই ঘটনায় যুক্ত প্রকৃত দোষীদের শাস্তি হোক, সেটা চাই… কিন্তু আজ মনে হচ্ছে, আমার সেদিন কলকাতা ছাড়া উচিত হয়নি। এই ঘটনায় আমি মানসিকভাবে কতখানি আহত, অন্তত তা প্রমাণ করার জন্য আমার থেকে যাওয়া উচিত ছিল এটাও মনে হচ্ছে।’
অরিত্র বলেছেন যে তিনি আইনি প্রক্রিয়ায় বিষয়টির সঙ্গে লড়াই করবেন। তিনি বলেছেন, ‘আইনী প্রক্রিয়ায় এর যথাসম্ভব বিহিত আমি চাইব নিশ্চয়ই। কিন্তু, গোটা প্রচারের বহর দেখে আমি ক্লান্ত ও বিধ্বস্ত হয়ে পড়ছি। কতজনের বিরুদ্ধে, কতগুলো অংশের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করব! আইনি পথে যাই করি না কেন, এই গোটা ঘটনায় আমার ওপর দিয়ে যা গেল, যা যাচ্ছে, যে সম্মানহানির মুখোমুখি আমাকে হতে হচ্ছে তার সুরাহা হবে? যাইহোক, যে-কোনও তদন্তের মুখোমুখি হতে আমি রাজি। কলকাতায় ফিরে আসছি। বাঁশদ্রোণীতে আমার ফ্ল্যাটেই আমাকে পাওয়া যাবে। ‘
অরিত্রের এই পোস্টে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া এসেছে। কেউ কেউ তাঁর অবস্থানকে সমর্থন করেছেন, কেউ কেউ তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগগুলি পুনরায় উত্থাপন করেছেন। পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত করছে এবং তারা অরিত্রকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।