Chandrayaan-3: কঠিন পরীক্ষার মুখে এবার চন্দ্রযান-৩, সাফল্যের সঙ্গে উতরাতে চায় ইসরো

চাঁদের পথে এগিয়ে চলেছে চন্দ্রযান ৩। এখন মাঝপথে রয়েছে সে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী শনিবার প্রবেশ করবে চাঁদের কক্ষপথে। তবে তার আগে আগামী দু’দিন তাকে কঠিন পরীক্ষা ও ঝুঁকি মোকাবিলা করতে হবে। আর সেই পরীক্ষাতেও সফলতার সঙ্গেই উতরাতে চায় তার নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইসরো।
গত ১৪ জুলাই অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধওয়ান স্পেস সেন্টার থেকে চাঁদের উদ্দেশে উৎক্ষেপণ করা করা হয় চন্দ্রযান-৩। যার হাত ধরে চন্দ্রপৃষ্ঠে ‘সফ্ট ল্যান্ডিং’ তথা নিরাপদ অবতরণের আশা করছে ভারতের মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র ইসরো।

চন্দ্রযান-৩ ঘিরে যেসব চ্যালেঞ্জগুলো ছিল, তার মধ্যে অন্যতম হলো পৃথিবীর কক্ষপথ পেরিয়ে যাওয়ার ধাপটি। এক্ষেত্রে চন্দ্রযান-৩-এর গতি ধীরে ধীরে বৃদ্ধি করার জন্য মোট পাঁচটি কক্ষপথ পরিবর্তনের পরিকল্পনা করে ইসরো।

সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পুরোপুরি সফল হয় ভারতীয় বিজ্ঞানীরা। একে একে সবগুলো কক্ষপথ পেরোনোর চেষ্টা সম্পন্ন করেছে চন্দ্রযান-৩। যে পাঁচটি পৃথক ধাপ পার করার কৌশল নিয়ে চন্দ্রযান-৩ এগিয়েছে তার প্রথমটি সফল হয় ১৫ জুলাই। এর পরেরটি ১৬ জুলাই। তার পরেরটি ১৮ জুলাই। এরপর ২০ জুলাই পার করে চতুর্থ ধাপ। সবশেষ গত মঙ্গলবার চূড়ান্ত ও পঞ্চম ধাপ পার করে এটি।

সোমবার পৃথিবীর কক্ষপথ ছেড়ে নিজের গতি বাড়িয়ে চাঁদের কক্ষপথের উদ্দেশে পাড়ি দেয় চন্দ্রযান-৩। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য মতে, চাঁদের ‘স্ফিয়ার অফ ইনফ্লুয়েন্সে’ তথা আকর্ষণক্ষেত্রে প্রবেশ করেছে চন্দ্রযান-৩। কয়েকদিনের মধ্যে এটি প্রবেশ করবে চাঁদের কক্ষপথে।

এরপর চাঁদের আকর্ষণকে কাজে লাগিয়ে তার চারপাশে বেশ কয়েক পাক ঘুরে ক্রমশ গতি কমিয়ে তা চলে আসবে চন্দ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০০ কিলোমিটার দূরে। তারপর ধীরে ধীরে নেমে যাবে চাঁদের মাটির দিকে।

এই ধাপটিকে সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা বলে মনে করা হচ্ছে। এই ধাপে অনেকটা পালকের মতো ভেসে ভেসে আলতো করে চাঁদের মাটিতে অবতরণ করবে ল্যান্ডার ‘বিক্রম’। যার ভেতরে থাকা চন্দ্র অভিযাত্রী যান ‘প্রজ্ঞান’ নেমে আসবে চাঁদের মাটিতে। যেটা এ অভিযানের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত।

গতবার এই পালকের মতো অবতরণ করতে ব্যর্থ হয়েছিল চন্দ্রযান-২। এবার সেই ভুল ইসরো এড়াতে পারবে কিনা সেটাই দেখার জন্য অপেক্ষায় ভারতীয়রা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অঙ্কের সামান্য ভুলে যদি চন্দ্রযান-৩ শেষ পর্যন্ত চাঁদের কক্ষপথে পৌঁছতে না পারে, তবে তা আবার ঘুরে চলে আসবে পৃথিবীর কক্ষপথে।

তবে সেখান থেকে তাকে আবার চাঁদে পাঠানোর মতো জ্বালানি আর থাকবে না। সে ক্ষেত্রে চন্দ্রযান-৩কে ‘লস্ট মিশন’ বা ব্যর্থ অভিযান বলেই ধরে নেয়া হবে। সে ক্ষেত্রে কি চন্দ্রযান-৩ পৃথিবীর কক্ষপথেই চিরকাল ঘুরে যাবে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তখন ইসরোর কাজ হবে, পৃথিবীর কক্ষপথ থেকে চন্দ্রযান-৩কে পৃথিবীপৃষ্ঠে ফিরিয়ে আনা।

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *