মোটা হয়ে যাচ্ছিলেন, তাই ফিট থাকতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়লেন তরুণী!

শরীর সুস্থ রাখতে আদর্শ ওজন বজায় রাখা এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ওজন কমানোর তীব্র আকাঙ্ক্ষা যখন নেশায় পরিণত নয়, তখন এটি মানুষের ব্যক্তিগত জীবনে সমস্যা তৈরি করতে পারে। যেমনটি ঘটেছে এক চীনা তরুণীর সঙ্গে। কেবল ওজন কমানোর নেশায় বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর পড়া ছেড়ে দিয়েছেন তিনি।

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের খবর অনুসারে, শাং নামে ওই তরুণীর বাড়ি চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশে। স্নাতকোত্তর পড়াকালীন এক সেমিস্টারে তার ওজন বেড়ে ৯০ কেজি হয়ে গিয়েছিল। এরপরই বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

তবে এর জন্য কোনো অনুশোচনা নেই বলে জানিয়েছেন তরুণী। কারণ এই চেষ্টার ফল এরই মধ্যে পেতে শুরু করেছেন তিনি।
জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার কারণে ল্যাবরেটরিতে দীর্ঘসময় বসে থাকতে হতো শাংকে। ফলে শারীরিক নিষ্ক্রিয়তার কারণে কয়েক মাসের মধ্যেই তার ওজন ১০ কেজির বেশি বেড়ে যায়।

ওজনবৃদ্ধি তার স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করতে শুরু করে জানিয়ে তরুণী বলেন, আমি অতিরিক্ত কাজের কারণে কিছুটা স্থূলতায় ভুগছিলাম। এটি আমার ভালো লাগতো না।

এরপরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ। তারপর থেকে নিয়মিত জিমে যাওয়া, সাতার কাটা, ব্যাডমিন্টন খেলা, সিঁড়ি বেয়ে ওঠার মতো শারীরিক কসরতে মন দেন তিনি। শুধু তা-ই নয়, কঠোর ডায়েটও শুরু করেন শাং।

এই পরিশ্রমের ফলও পান হাতেনাতে। এরই মধ্যে তার ওজন নেমে এসেছে ৬৫ কেজিতে।

চীনা সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম উইবোতে এই ঘটনা শেয়ার হওয়ার পরপরই তা ভাইরাল হয়ে পড়ে। অনেকে তরুণীর চারিত্রিক দৃঢ়তা ও অধ্যাবসায়ের প্রশংসা করলেও ওজন কমানোর জন্য কেন পড়াশোনা ছাড়তে হলো, তা বুঝতে পারছেন না কেউ কেউ।

একজন লিখেছেন, তিনি দুর্দান্ত চারিত্রিক শক্তি দেখিয়েছেন। আরেকজন প্রশ্ন তুলেছেন, লক্ষ্য অর্জনের জন্য তাকে পড়াশোনা ছাড়তে হবে কেন?

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *