কী ভাবে খুন করেছিলেন শ্রদ্ধাকে? প্রেমিকার বাবার কাছে স্বীকারোক্তি আফতাবের

সোমবার দিল্লির একটি আদালতে শ্রদ্ধাকাণ্ডের মামলার শুনানি ছিল। আদালতে হাজির হয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগটি করেন শ্রদ্ধার বাবা বিকাশ।

সাক্ষ্য দিতে গিয়ে শ্রদ্ধার বাবা বলেন, পারিবারিক অশান্তির জেরে আফতাব নিজের হাতে মেয়েকে শ্বাসরোধ করে খুন করে বলে তাঁকে জানিয়েছিল। শ্বাসরোধ করে খুন করার পর বাজার থেকে কিনে আনা একটি করাত দিয়ে দেহ টুকরো করে এবং একটি ট্র্যাশ ব্যাগে রেখেছিল বলে অভিযুক্ত তাঁকে জানায়। সাক্ষ্য দিতে গিয়ে বিকাশ ওয়াকার আরও জানান যে বেশ কয়েকদিন ধরে মেয়েরে কোনও খবর না পাওয়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। একদিন আফতাবকে ফোন করে মেয়ের খবর জিজ্ঞাসা করেন।

মেয়ে আর নেই বলে সেই সময় অভিযুক্ত তাঁকে জানিয়েছিল বলে দাবি করেন শ্রদ্ধার বাবা। মেয়ের মৃত্যুর খবর শুনে প্রথমে তিনি হকচকিত হয়ে পড়েছিলেন বলে জানান বিকাশ। মাথা ঘুরতে শুরু করে তাঁর। এরপর ধাতস্থ হয়ে ফের আফতাবকে ফোন করেছিলেন । এরপরেই কীভাবে শ্রদ্ধাকে খুন করা হয়েছে, আফতাব তা সবিস্তারে বর্ণনা করে জানিয়েছিল বলে আদালতে জানিয়েছেন বিকাশ ওয়াকার।

ভারতের দিল্লির মেহরৌলিতে লিভ-ইন পার্টনার শ্রদ্ধা ওয়াকারকে হত্যার পর মরদেহ ৩৫ টুকরো করেন প্রেমিক আফতাব আমিন পুনাওয়ালা। মরদেহ টুকরো করতে আফতাব পাঁচটি ছুরি ব্যবহার করেন বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ।

দিল্লি পুলিশ ভারতীয় গণমাধ্যমকে জানায়, আফতাব শ্রদ্ধাকে হত্যার পর তার দেহ টুকরো টুকরো করতে যে পাঁচটি ছুরি ব্যবহার করেছিলেন তা পাওয়া গেছে। তবে একটি করাত এখনো নিখোঁজ রয়েছে।

পুলিশ আরো জানায়, তারা পাঁচটি ছুরি উদ্ধার করেছে, প্রতিটি ৫-৬ ইঞ্চি লম্বা, এবং সেগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

গত ১৮ মে শ্রদ্ধাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন আফতাব। পরে প্রেমিকার মরদেহ ৩৫ টুকরো করার পর সেগুলো সংরক্ষণ করতে নতুন ফ্রিজও কিনেছিলেন তিনি। এরপর ১৮ দিন ধরে দিল্লির জঙ্গলের বিভিন্ন জায়গায় শ্রদ্ধার দেহের টুকরাগুলো ফেলতেন আফতাব।

শ্রদ্ধার হত্যাকাণ্ড প্রকাশ্যে এলে ভারতজুড়ে শুরু হয় প্রবল আলোচনা। অনেকে আফতাবের বিচারের জন্য দাবি করে আসছেন। এছাড়া এ ঘটনার জন্য দিল্লি পুলিশ ব্যাপকভাবে তদন্ত চালাচ্ছে বলে সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে।