পিরিয়ডের সময় বরফ দেওয়া জল বা কোল্ড ড্রিঙ্ক, সর্বনাশ! বিপদ হতে পারে আপনার

মাসের এই একটা সময়ে বেশ কতগুলি নিয়ম মেনে চলা আবশ্যিক। না হলে শারীরিক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। তাই তো এবার থেকে এই প্রবন্ধে আলোচিত বিষয়গুলি মাথায় রেখে চলবেন, যদি সুস্থভাবে বেশি দিন বাঁচতে চান তো! পিরিয়ডের সময় শরীরে নানা পরিবর্তন আসতে শুরু করে। সেই সঙ্গে সঙ্গী হয় স্টামাক ক্র্যাম্প এবং মারাত্মক যন্ত্রণা। তাই তো এই সময় শরীরের বেশি করে খেয়াল রাখা উচিত। লক্ষ রাখা উচিত কোনও ভাবে যাতে শরীরের ক্ষয় না ঘটে। শুধু তাই নয়, এই সময়ে ডায়েটের দিকেও নজর রাথাটা একান্ত প্রয়োজন। কারণ একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে কী ধরনের খাবার এই সময় খাওয়া হচ্ছে, তার উপর শরীরের ভাল-মন্দ অনেকাংশেই নির্ভর করে।

এই প্রবন্ধে এমন কিছু জিনিসের প্রসঙ্গে আলোচনা করা হল, যা পিরিয়ডের সময় মেনে চলতে হবে। না হলে কিন্তু বিপদ!
১. শারীরিক সম্পর্ক করা থেকে বিরত থাকতে হবে: এই সময় নিরাপদ শারীরিক সম্পর্ক না করলে গর্ভবতী হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা কিন্তু বেড়ে যায়। সেই সঙ্গে সংক্রমণেরও ভয় থাকে। তাই তো এই সময় এমনটা না করাই ভাল। নচেৎ মারাত্মক শারীরিক ক্ষতি হতে পারে কিন্তু!
২. খালি পেটে থাকবেন না: পিরিয়ডের সময় খালি পেটে একেবারেই থাকবেন না। এই সময় যেহেতু মাত্রতিরিক্ত পরিমাণে এনার্জি লস হয়, তাই এই ঘাটতি পূরণের জন্য় ঠিক মতো খাওয়া-দাওয়া করাটা একান্ত প্রয়োজন।
৩. মাত্রতিরিক্ত শরীরচর্চা করবেন না: এই সময় অল্প বিস্তর শরীরচর্চা চলতে পারে। কিন্তু ইনটেন্স ওয়ার্কআউট করা একেবারেই চলবে না। আর যদি পেটে এবং পিঠে ব্যথা থাকে, তাহলে তো একেবারেই শরীরচর্চা করা যাবে না। এই নিয়মটা না মানলে কিন্তু যন্ত্রণা বাড়বে।
৪. ফাস্ট ফুড বা ভাজাভুজি খাওয়া চলবে না: এমনিতেই জাঙ্ক ফুড খাওয়া শরীরের পক্ষে ভাল নয়। আর এই সময় এমন খাবার খেলে তো আরও বিপদ! প্রসঙ্গত, পিরিয়ডের সময় ফ্রায়েড খাবার খেলে শরীরের মারাত্মক ক্ষতি হয়।
৫. রাত জাগা একেবারেই চলবে না: এমনিতেই এই সময় শরীর খুব দুর্বল হয়ে যায়। তার উপর রাত জাগলে শরীরের কাজ করার ক্ষমতা একেবারে কমে যায়। সেই সঙ্গে আরও অসুস্থ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও বৃদ্ধি পায়। শুধু তাই নয়, ঘুন না হওয়ার কারণে ক্লান্তিভাব এতটাই বেড়ে যায় যে দৈনন্দিন কাজ কর্মেও বাঁধা আসতে শুরু করে। তাই পিরিয়ডের সময় রাত জাগা একেবারেই চলবে না।
৬. অফিস বা কাজে যেতেই পারেন: অনেকেই এই সময় দৈনন্দিন কাজ কর্ম একেবারে বন্ধ করে দেন। এমনটা না করলেও চলে। কারণ পিরিয়োডের সময় স্কুল, কলেজ বা অফিসে গেলে কোনও সমস্যাই হয় না।
৭. ভুলেও শসা খাবেন না: পিরিয়োডের সময় শসা খেলে নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। আসলে শসাতে উপস্থিত কিছু উপাদান এই সময় শরীরের উপর খারাপ প্রভাব ফেলে, যে কারণে পরিস্থিত আরও খারাপ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
৮. বরফ দেওয়া জল বা কোল্ড ড্রিঙ্ক খাবেন না: এই নিয়মটা না মানলেও কিন্তু শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। তাই পিরিয়ডের সময় বরফ জল এবং কোল্ড ড্রিঙ্ক একেবারে নৈব নৈব চ! প্রসঙ্গত, একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে এই সময় এই ধরনের পানীয় খেলে ইউটেরাইন ওয়ালে রক্ত থেকে যায়। এমনটা হতে থাকলে ৫-১০ বছর পরে গিয়ে ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বহুগুণে বেড়ে যায়।ts

Related Posts

© 2024 Tech Informetix - WordPress Theme by WPEnjoy