পকেট খালি করেও গাড়ি কেনার ধুম! উৎসবের মরশুমে ৪ লক্ষ ছাড়াল বিক্রি, বাজারে কেন এত উন্মাদনা?

ধনতেরসের শুভ লগ্নে দেশের অটোমোবাইল বাজারে গাড়ি বিক্রির সব রেকর্ড দুমড়ে-মুচড়ে দিল ভারতের বৃহত্তম গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থা মারুতি সুজুকি। জ্যোতিষ মতে সোনা-রুপোর পাশাপাশি শুভ দিনে নতুন বাহন ঘরে তোলার চিরাচরিত প্রথা মেনে ধনতেরসের মাত্র ১ দিনেই প্রায় ৩০,০০০ গাড়ি গ্রাহকদের হাতে তুলে দিয়ে এক নজিরবিহীন কীর্তি গড়ল সংস্থাটি।

তবে এই বিক্রির সুনামি কেবল ধনতেরসের একদিনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। সংস্থার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে গণেশ চতুর্থী (১৪ই সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু করে ৬ই নভেম্বর পর্যন্ত মারুতি সুজুকি মোট ৪ লক্ষেরও বেশি গাড়ি বিক্রি করে এক বিরাট রেকর্ড স্থাপন করেছে। গত বছর একই উৎসবের সময়ে এই বিক্রির সংখ্যাটি ছিল ৩.৪৬ লক্ষ ইউনিট। অর্থাৎ, গত বছরের তুলনায় এই উৎসবের মরশুমে মারুতির গাড়ি বিক্রি একলাফে প্রায় ১৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

মারুতি সুজুকির মার্কেটিং ও সেলস বিভাগের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার পার্থ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “আমরা আশা করেছিলাম এ বছর ধনতেরসে প্রায় ৩০,০০০ গাড়ি ডেলিভারি দেওয়া সম্ভব হবে এবং বাজারে চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। গণেশ চতুর্থী থেকে ৬ই নভেম্বর পর্যন্ত গ্রাহকদের অভূতপূর্ব সাড়া পেয়েছি আমরা।”

ব্যালেনো ও ব্রেজা-র জাদুতে বুঁদ গ্রাহকেরাসংস্থার নতুন ও আপডেটেড দুই জনপ্রিয় মডেল— ‘ব্যালেনো’ (Baleno) এবং ‘ব্রেজা’ (Brezza) কেনার জন্য শোরুমগুলিতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। মারুতির হিসাব অনুযায়ী, গত ৫ই সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারে আসার মাত্র দুই মাসের মধ্যেই ব্যালেনোর বিক্রি ৫০,০০০ ইউনিটের গণ্ডি পেরিয়ে গিয়েছে। অন্যদিকে, ব্রেজার বিক্রি ইতিমধ্যে ৭০,০০০ ইউনিট অতিক্রম করেছে। দুটি মডেলের জন্যই এখনও বিপুল সংখ্যক বুকিং লাইন ধরে রয়েছে।

ব্রেজার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের নজর সবচেয়ে বেশি কাড়ছে এর জ্বালানি বিকল্পগুলি। পরিসংখ্যান বলছে, ব্রেজার মোট বুকিংয়ের ৪১ শতাংশই সিএনজি (CNG) মডেলের, ৩৩ শতাংশ টার্বো ইঞ্জিনের এবং ২৬ শতাংশ বুকিং এসেছে ১.৫-লিটার পেট্রোল ইঞ্জিনের ক্ষেত্রে। এটি স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, বর্তমানে পকেট-বান্ধব সিএনজি মডেলের চাহিদাই সবচেয়ে শীর্ষে।

ছোট গাড়ি ও এসইউভি-র বিক্রিও ঊর্ধ্বমুখী চলতি বছর এপ্রিল থেকে অক্টোবরের মধ্যে মারুতি সুজুকির ছোট বা হ্যাচব্যাক ক্যাটাগরির গাড়ির বিক্রি প্রায় ৩৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। জিএসটি ২.০ (GST 2.0) চালু হওয়ায় এই হ্যাচব্যাক সেগমেন্টে নতুন করে ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে সংস্থাটি। এ ছাড়া, উৎসবের এই সময়ে মারুতির এসইউভি (SUV) সেগমেন্টের বিক্রিও গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সার্বিকভাবে, ছোট ফ্যামিলি কার থেকে শুরু করে প্রিমিয়াম এসইউভি— সর্বক্ষেত্রেই ধনতেরসে বাজিমাত করে অটোমোবাইল বাজারে রাজত্ব বজায় রাখল মারুতি সুজুকি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *