নাসরাপুর কাণ্ডে ঐতিহাসিক রায়! ৩ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও খুনে মৃত্যুদণ্ড ভীমরাও কাম্বলের

মহারাষ্ট্রের নাসরাপুর এলাকায় ৩ বছর বয়সী এক শিশুকে নৃশংসভাবে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় আজ ঐতিহাসিক রায় দিল আদালত। বিচারক প্রধান অভিযুক্ত ভীমরাও কাম্বলেকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন। আদালত এই ঘটনাকে ‘বিরলতম বিরল’ (rarest of rare) অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তির সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে।
বৈজ্ঞানিক প্রমাণে হার মানল অপরাধীর মিথ্যাচার
এই মামলার প্রধান সরকারি কৌঁসুলি অজয় মিসার জানান, ঘটনায় কোনো প্রত্যক্ষদর্শী না থাকলেও পুলিশ ও রাষ্ট্রপক্ষ ফরেনসিক বিজ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে একটি শক্তিশালী জাল বুনেছিল। অভিযুক্ত ভীমরাও কাম্বলে জেরার মুখে ঘটনাটিকে কেবলই একটি ‘দুর্ঘটনা’ বলে চালানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের রিপোর্ট, সিসিটিভি ফুটেজ, ভুক্তভোগীর মেডিকেল রিপোর্ট এবং ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের মতো অকাট্য প্রমাণের সামনে তার সমস্ত মিথ্যাচার ধূলিসাৎ হয়ে যায়।
১৫ দিনে ১২০০ পৃষ্ঠার চার্জশিট
ঘটনার পর নাসরাপুর ও পুনের গ্রামীণ এলাকায় তীব্র জনরোষ তৈরি হয়েছিল। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে পুনে গ্রামীণ পুলিশ অত্যন্ত দ্রুততার সাথে তদন্ত সম্পন্ন করে। পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে ১,২০০ পৃষ্ঠার একটি বিস্তারিত অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করে। ঘটনাস্থলের পুঙ্খানুপুঙ্খ পঞ্চনামা ও পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য-প্রমাণ এই মামলায় জয়লাভের প্রধান চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করেছে।
পরিবারের প্রতিক্রিয়া ও ন্যায়বিচারের বার্তা
আদালতের এই রায়ের সময় এজলাসে কান্নায় ভেঙে পড়েন নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যরা। রায় ঘোষণার পর তারা জানান, তাদের মেয়ের আত্মা অবশেষে শান্তি পাবে। বিচারব্যবস্থা এবং পুলিশ প্রশাসনের প্রতি তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
সরকারি কৌঁসুলি ও পুলিশ প্রশাসনের মতে, এই রায় বিকৃত মানসিকতার অপরাধীদের কাছে একটি কঠোর বার্তা। সমাজে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এমন জঘন্য অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধে এই সাজা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।