OMG! চারদিকে থৈ থৈ সমুদ্রের জল, প্রশান্ত মহাসাগরে ৩৮ দিন ভেসেছিল এক পরিবার

বিশালতার আরেক নাম সমুদ্র। এই সমুদ্রে রয়েছে জানা-অজানা অনেক রহস্য ও রোমাঞ্চ। ঠিক তেমনি একটি রোমাঞ্চকর ঘটনা ঘটেছে প্রশান্ত মহাসাগরে। নৌকায় চড়ে সাগর ভ্রমণে বের হয়েছিল একটি পরিবার।
এই ভয়াবহ রোমাঞ্চকর ঘটনাটি ঘটেছিল ১৯৭১ সালে। নৌকায় চড়ে প্রশান্ত মহাসাগরে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে বের হয়েছিল ইংল্যান্ডের রবার্টসন পরিবার। কিন্তু তারা যে এক ভয়াবহ বিপদের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে তার কোনো ধারণা ছিলনা তাদের।
যখন তাদের নৌকা মাঝ সমুদ্রে পৌছায় একটি তিমির আঘাতে ডুবে যায় তাদের একমাত্র নৌকাটি। কিন্তু এরপরেও হাল ছাড়েননি তারা। ছোট ডিঙিতে চড়ে সমুদ্রে ভেসে দিন কাটিয়েছিলেন তারা। ১৯৭১ সালের জানুয়ারি মাসে ফালমাউথ থেকে যে বোটে তারা যাত্রা শুরু করেছিলেন তার নাম লুসেট।
সেই সময় রবার্টসন পরিবারের সদস্য ডগলাসের বয়স ছিল মাত্র ১৮। পরে ডগলাসই সেই অভিজ্ঞতার কথা সংবাদমাধ্যমের কাছে তুলে ধরেন। তার ভাষ্যমতে, কৃষক ছিলেন তারা। সমুদ্রে যাত্রার অভিজ্ঞতা তাদের কারোরই ছিল না। মাঝ সমুদ্র। চারপাশে কোথাও কেউ নেই। সাহায্যের জন্য তাই সেই সময় কাউকেই পায়নি রবার্টসন পরিবার। ফলে ওই ডুবন্ত নৌকায় কোনোরকমে ভেসে দিন কাটিয়েছেন তারা।
ডগলাস জানান, তবে ওই অবস্থায় খাবার নিয়ে অনেক সমস্যা হয়েছিল। তারা কেউই মৃত্যুর কাছে হার মানতে চাননি। বেঁচে থাকার জন্য সমুদ্রের প্রাণীদের উপর নির্ভর ছিল তারা। সামুদ্রিক মাছ এমনকি কচ্ছপ সবকিছুই কাঁচা অবস্থাতে খেয়ে দিন পার করেছিলেন তারা। তবে তারা প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে, ক্ষুধার জন্য একে অপরকে খুন করবেন না।
এভাবেই টানা ৩৮ দিন পার করেছিলেন তারা। এরপর মাঝ সমুদ্র থেকে উদ্ধার করে জাপানের একটি ট্রলার। তারপর সেই ট্রলারে করে রবার্টসন পরিবারের সদস্যদের পানামা ক্যানালে নেওয়া হয়।
রবার্টসন পরিবারের এই বেঁচে থাকার লড়াই অনেক মানুষের কাছেই অনুপ্রেরণা। ডগলাস বলেন, জীবনটা রোমাঞ্চকর। যে সমস্যাই আসুক না কেন, মোকাবিলা করতে হবে। কখনোই হার মানা যাবে না।