দিনে ৯ ঘণ্টার বেশি বসে কাজ করলে ঘটতে পারে মৃত্যু! জেনেনিন বিস্তারিতভাবে

বসে একটানা কাজ করলে শরীরে দেখা দিতে পারে নানা সমস্যা। এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে বলে একটি ব্রিটিশ গবেষণায় উঠে এসেছে।

টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে এ গবেষণাটি প্রকাশিত হয়। এতে দেখা যায়, দিনে সাড়ে ৯ ঘণ্টা বা এর বেশি বসে থাকলে বাড়তে পারে মৃত্যু ঝুঁকি।

গবেষণাটি থেকে জানা যায়, বিশ্বে প্রতি বছর মৃত্যু হওয়া মানুষের মধ্যে ৪ শতাংশই হচ্ছে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার কারণে। এই মৃত্যুর সংখ্যা ৪ লাখ ৩৩ হাজার। ৩ ঘণ্টার বেশি টানা বসে থাকলে মৃত্যু ঝুঁকি বাড়তে থাকে।

মূলত একটানা বসে থাকলে শরীরের নয়টি অঙ্গ ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেগুলো হচ্ছে, মাথা, হাত, পা, পায়ের পাতা, ঘাড়, পিঠ, ফুসফুস, পাকস্থলী এবং হৃৎপিণ্ড।

গবেষকদের মতে, খুব কম বিরতিতে একটানা বসে কাজ করলে বা টিভি দেখলে টাইপ টু ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেড়ে যায় ৯০ শতাংশ। এ ছাড়া দীর্ঘ সময় বসে কাজ করলে মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয় ।

দ্য ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের মতে, ১৮ থেকে ৬৪ বছরের ব্যক্তিকে সপ্তাহে ১৫০ মিনিট হালকা শারীরিক ব্যায়াম ও ৭৫ মিনিট কঠোর পরিশ্রম নিয়মিতভাবে করা উচিত।

আসুন দেখে নিই, দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে বা বসে একটানা কাজ করলে কী ঘটে

১. দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে হৃদ্‌রোগজনিত জটিলতা দেখা দেয়। বেশিক্ষণ বসে থাকলে শরীরে যে চর্বি জমা হয় সেগুলো ঝরে যাওয়ার কোনো সুযোগ থাকে না। তখন শরীরে ফ্যাটি অ্যাসিডের পরিমাণ বেড়ে জটিলতা তৈরি করে।

২. যারা দীর্ঘ সময় বসে কাজ করেন তাদের বেশির ভাগেরই ঘাড়, কাঁধ, কোমর এবং পিঠে ব্যথায় ভুগতে দেখা যায়।

৩. সারাদিন কম্পিউটার কিংবা ল্যাপটপে বসে কাজ করলে দেহভঙ্গিতে তার প্রভাব পড়ে।

৪. একটানা বসে কাজ করলে শুধু শারীরিক ক্ষতিই হয় না, মানসিক সমস্যাও দেখা দেয়।

৫. ঘুমেরও ব্যাঘাত ঘটে।

৬. দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করলে পায়ের ওপরও চাপ পড়ে। এতে পায়ের শিরাতে রক্ত চলাচলে সমস্যা দেখা দেয়। মাঝেমধ্যে পা ফুলেও যায়।

৭. একটানা কাজ করলে শরীরে ওজন বাড়ার প্রবণতা বাড়ে।

তবে সারা দিন যাদের বসে কাজ করতে হয়, অন্তত প্রতি আধ ঘণ্টা পর একবার বিরতি নেওয়া উচিত বলে গবেষকদের মত। সে ক্ষেত্রে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি কিংবা দাঁড়াতে পারেন। যাদের ঘাড়, পিঠে ব্যথা হয় তাদের প্রতি আধ ঘণ্টা পর পর তাদের ফ্রি হ্যান্ড ব্যায়াম করা উচিত বলে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *