“৫ টাকায় ধোঁয়া ওঠা চিকেন-ভাত!”-অগ্নিমূল্যর বাজারে শান্তিপুরে এ কী কাণ্ড?

নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম এখন আকাশছোঁয়া। এমন পরিস্থিতিতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের কাছে দু’বেলা পেট ভরে খাওয়াই চরম চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু এই অগ্নিমূল্যের বাজারেও মাত্র ৫ টাকায় পাতে মিলছে ধোঁয়া ওঠা গরম ভাত আর সুস্বাদু চিকেন কারি! নদিয়ার শান্তিপুর পুরসভার বিশেষ উদ্যোগে পরিচালিত ‘মা আহার’ ক্যান্টিনে দেখা গেল এমনই এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। এতদিন স্বল্পমূল্যের এই সরকারি ক্যান্টিনে ডিম, মাছ বা নিরামিষ তরকারির ব্যবস্থা থাকলেও, এবার উপভোক্তাদের আবদার মেনে পাতে পরিবেশন করা হচ্ছে গরম গরম মাংস-ভাত।
মাত্র পাঁচ টাকার বিনিময়ে এমন রাজকীয় আহার পেয়ে স্বাভাবিকভাবেই দারুণ খুশি এলাকার খেটে খাওয়া দুস্থ মানুষেরা।
শান্তিপুর পুরসভার এই ‘মা আহার’ ক্যান্টিনটি মূলত দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করেন স্থানীয় একটি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা। গোষ্ঠীর অন্যতম সদস্যা মায়া দাস জানান, ২০২১ সাল থেকে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে তাঁরা এই পরিষেবা সামলে আসছেন। সাধারণত সোম ও শুক্রবার মাছ, বুধ ও শনিবার ডিম এবং সপ্তাহের বাকি তিন দিন নিরামিষ তরকারি, ডাল ও ভাতের আয়োজন থাকে।
তবে দুর্গাপুজোর সময় থেকেই নিয়মিত উপভোক্তাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল পাতে মাংস পাওয়ার। পুজোর ছুটির কারণে সেই সময় সম্ভব না হলেও, প্রতিশ্রুতি মতো ছুটি কাটতেই এদিন উপভোক্তাদের পাতে তুলে দেওয়া হয় গরম ভাত ও মাংস। মায়াদেবী জানান, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১১০টি মিল তৈরি হয় এখানে। অনেকেই নিজের পাশাপাশি পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের জন্য খাবার বাড়ি নিয়ে যান। এতে আর্থিক লাভের মুখ না দেখলেও, প্রান্তিক ও সাধারণ মানুষের সেবা করাই তাঁদের মূল উদ্দেশ্য।
পুরসভার এই অভিনব উদ্যোগে অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত সাধারণ মানুষ। চন্দনা বিশ্বাস কর্মকার নামে এক নিয়মিত গ্রাহক জানান, “ঝড়-বৃষ্টি-গ্রীষ্ম সব ঋতুতেই এই আহারের ওপর আমরা ভরসা করি।” এদিন পাতে মাংস পেয়ে তাঁর আনন্দ দ্বিগুণ হয়ে উঠেছে। অপর এক উপভোক্তা অঞ্জনা কেরামণি বলেন, “বাজারের যা পরিস্থিতি, তাতে এই পাঁচ টাকার আহার আমাদের মতো সাধারণ পরিবারের কাছে বিরাট আশীর্বাদ। আজ তৃপ্তি করে মাংস-ভাত খেয়ে পেট ও মন দুটোই ভরে গেল।”