ঋতু পরিবর্তনের মরসুমে গর্ভবতীদের জন্য বড় বিপদের ঘণ্টা! সামান্য ভুলেই হতে পারে নিউমোনিয়ার মতো মারাত্মক জটিলতা!

শরৎ ও শীতের এই সন্ধিক্ষণে আবহাওয়ায় বড় পরিবর্তন এসেছে। সকাল-সন্ধ্যায় হালকা ঠান্ডার আমেজ এবং দিনে রোদের ওঠানামার এই সময়ে সর্দি-কাশি, ফ্লু এবং বিভিন্ন মৌসুমি সংক্রমণের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে এই সময়টা গর্ভবতী নারীদের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। উৎসবের বাড়তি ক্লান্তি এবং আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনায় একটু অবহেলা করলেই বড় ধরনের শারীরিক জটিলতা তৈরি হতে পারে।

উত্তরপ্রদেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের বিশিষ্ট গাইনোকোলজিস্ট ডা. মীরা পাঠকের মতে, গর্ভাবস্থায় নারীদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি কিছুটা কম থাকে, যার ফলে তাঁরা খুব দ্রুত ভাইরাসের সংক্রমণে আক্রান্ত হতে পারেন। সাধারণ ভাইরাল ইনফেকশন থেকেও অনেক সময় নিউমোনিয়া বা শ্বাসকষ্টের মতো মারাত্মক সমস্যা দেখা দেওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই এই সময়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরি।

মৌসুমি সংক্রমণ থেকে বাঁচতে মেনে চলুন এই সতর্কতাগুলি
ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বা হাইজিন: বিশেষজ্ঞরা সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। বাইরে থেকে এসে বা কিছু খাওয়ার আগে বারবার সাবান দিয়ে ভালো করে হাত ধুতে হবে। প্রয়োজনে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন।

ভিড় এড়িয়ে চলুন: অতিরিক্ত জনবহুল স্থান বা মেলামেশা এড়িয়ে চলুন। বিশেষ করে যাঁদের সর্দি-কাশি বা জ্বর রয়েছে, তাঁদের থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখাটা অত্যন্ত জরুরি।

খাদ্যাভ্যাস ও হাইড্রেশন: শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করতে হবে। প্রতিদিন অন্তত ৮ থেকে ১০ গ্লাস জল খাওয়া দরকার। ডায়েটে এমন খাবার রাখুন যা ইমিউনিটি বাড়াতে সাহায্য করে। ভিটামিন ‘সি’ যুক্ত ফল যেমন— পাতিলেবু, কমলালেবু, আমলকী এবং হালকা গরম হলুদ দুধ খেতে পারেন। পাশাপাশি সবুজ শাকসবজি, বাদাম ও বিভিন্ন বীজ ডায়েটে রাখা উপকারী।

মশাবাহিত রোগ থেকে সুরক্ষা: এই সময়ে ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার মতো রোগের প্রকোপ বাড়ে। তাই ঘর ও আশপাশে জল জমতে দেবেন না। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নিরাপদ हर्बल বা প্রাকৃতিক মোসকিটো রিপেলেন্ট ব্যবহার করুন এবং শোওয়ার সময় অবশ্যই মশারি টানুন।

পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও ঘুম: উৎসবের ব্যস্ততা যতই থাকুক না কেন, গর্ভবতী নারীদের পর্যাপ্ত বিশ্রামের কোনো বিকল্প নেই। রাতে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম এবং দিনে অন্তত ২ ঘণ্টা বিশ্রামের পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

চিকিৎসকের পরামর্শে ভ্যাকসিন এবং জরুরি লক্ষণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, গর্ভাবস্থায় ইনফ্লুয়েঞ্জা বা ফ্লুর টিকা নেওয়া অত্যন্ত উপকারী। এটি সিঙ্গেল ডোজ ভ্যাকসিন, যা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী গর্ভাবস্থার যেকোনো ত্রৈমাসিকে (Trimester) নেওয়া যেতে পারে।

তবে খেয়াল রাখতে হবে, যদি কখনো হঠাৎ করে শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, বুকে টান ধরা, শরীরে র‍্যাশ বের হওয়া কিংবা খুব বেশি মাত্রায় জ্বর আসার মতো গুরুতর লক্ষণ দেখা দেয়, তবে ঘরোয়া টোটকার ভরসায় না থেকে অবিলম্বে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া আবশ্যক।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *