অখিলেশের ৪০ হাজারকে টেক্কা দিয়ে ৫০ হাজার! ভোটমুখী ইউপিতে মেগা চাল যোগী সরকারের?

উত্তরপ্রদেশের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখন থেকেই চড়তে শুরু করেছে রাজনীতির পারদ। বিশেষ করে রাজ্যের বিশাল মহিলা ভোটারদের মন জয় করতে একের পর এক বড় প্রতিশ্রুতি এবং মাস্টারস্ট্রোক দিতে শুরু করেছে রাজনৈতিক দলগুলি।

সমাজবাদী পার্টির (SP) প্রধান অখিলেশ যাদব ক্ষমতায় এলে মহিলাদের জন্য বার্ষিক ৪০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর, এবার আরও একধাপ এগিয়ে ৫০ হাজার টাকার বিশাল প্যাকেজের পরিকল্পনা করছে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের বিজেপি সরকার।

যোগী সরকারের ৫০ হাজার টাকার বড় প্যাকেজ পরিকল্পনা গত ৩ নভেম্বর লখনৌতে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ জানান, রাজ্যের নারীদের স্বাবলম্বী ও আত্মনির্ভর করে তুলতে এক বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ আনা হবে। যদিও সেদিন কোনো নির্দিষ্ট টাকার অঙ্ক ঘোষণা করেননি মুখ্যমন্ত্রী, তবে নবান্ন বা প্রশাসনিক সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, প্রায় ৫০ হাজার টাকার এক মেগা প্যাকেজ নিয়ে শীর্ষস্তরে আলোচনা চলছে।

ইতিমধ্যেই উচ্চপর্যায়ে সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সেটি অনুমোদিত হলেই সরকারি স্তরে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তবে অর্থ দপ্তরের চিন্তা রাজ্য কোষাগারের ওপর এর প্রভাব নিয়ে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শীর্ষ সরকারি আধিকারিক জানান, “এটি একটি রাজনৈতিক সদিচ্ছার বিষয়। তবে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দের সিদ্ধান্তে রাজ্য কোষাগারে কতটা অতিরিক্ত চাপ পড়বে, বর্তমানে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

কেন মহিলা ভোটারদের ওপর নজর? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, উত্তরপ্রদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মহিলা ভোটাররা নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করছেন।

  • ভোটার সংখ্যা: বর্তমানে রাজ্যে নিবন্ধিত মহিলা ভোটারের সংখ্যা ৬ কোটিরও বেশি।

  • ভোটদানের হার: বিভিন্ন ভোট সমীক্ষা ও পূর্ববর্তী নির্বাচনের রিপোর্ট অনুযায়ী, পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের ভোটদানের হার অনেক বেশি। ২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের ভোটিং শতাংশ প্রায় ৩% বেশি ছিল।

  • বিজেপির সমর্থন: বিগত কয়েকটি নির্বাচনে পুরুষদের চেয়ে মহিলা ভোটারদের মধ্যেই বিজেপির প্রতি সমর্থন বেশি দেখা গিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে অখিলেশ যাদবের ৪০ হাজার টাকার পাল্টা দিতে এবং বিশাল এই মহিলা ভোটব্যাংক নিজেদের ঝুলিতে ধরে রাখতে যোগী সরকারের এই ৫০ হাজার টাকার প্রতিশ্রুতি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *