OBC ক্রিমি লেয়ার বিতর্কে লাখ লাখ সরকারি কর্মীর বড় স্বস্তি! পুরনো নিয়োগে নতুন নিয়ম নয়, স্পষ্ট জানাল সুপ্রিম কোর্ট

অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণী বা ওবিসি (OBC) সংরক্ষণ এবং ‘ক্রিমি লেয়ার’ চিহ্নিতকরণ সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের আগের একটি নির্দেশের জেরে দেশজুড়ে সরকারি কর্মীদের মধ্যে তীব্র শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে অতীতে হওয়া লক্ষ লক্ষ সরকারি নিয়োগের ওপর নতুন নিয়ম কার্যকর হলে চাকরি হারানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। অবশেষে সেই বিষয়ে নিজেদের চূড়ান্ত অবস্থান পরিষ্কার করল শীর্ষ আদালত। জানানো হয়েছে, পূর্বের সম্পন্ন হওয়া নিয়োগগুলির ওপর নতুন নির্দেশ কার্যকর হবে না। একই সঙ্গে ওবিসি তালিকায় ক্রিমি লেয়ার চিহ্নিত করার জন্য কেন্দ্রকে ৮ সপ্তাহের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে আদালত।
কেন্দ্রের ২ বছরের আবেদন খারিজ, মিলল মাত্র ৮ সপ্তাহ
শুক্রবার বিচারপতি পি নরসিমহা এবং বিচারপতি আর মহাদেবনের ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়। পূর্বে প্রদত্ত নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য কেন্দ্র সরকারকে অতিরিক্ত আট সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে। তবে ক্রিমি লেয়ার চিহ্নিত করার জটিল কাজ শেষ করার জন্য কেন্দ্রের চাওয়া দুই বছরের আবেদন সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত।
কেন চিন্তায় ছিল কেন্দ্র সরকার?
২০১৬ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সম্পন্ন হওয়া বিপুল সংখ্যক পুরনো নিয়োগ নিয়েই মূলত মূল দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছিল। আদালতে কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়:
২০১৬ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রক ও অধীনস্থ দপ্তরে মোট ৫.৬৯ লক্ষ সংরক্ষিত পদে নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে।
যার মধ্যে শুধুমাত্র ওবিসি (OBC) প্রকারীদের জন্য বরাদ্দ ছিল ৩.৭০ লক্ষ পদ।
১৯৯৩ সালের অফিস মেমোরান্ডাম অনুযায়ী সমস্ত নিয়ম মেনে এই নিয়োগগুলি করা হয়েছিল। কেন্দ্র যুক্তি দেয়, নতুন নিয়ম যদি অতীতে হওয়া নিয়োগেও কার্যকর হয়, তবে লাখ লাখ কর্মীর চাকরি অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। শুধু তাই নয়, সিভিল সার্ভিস ক্যাডার বন্টন, আধিকারিকদের পদোন্নতি এবং রেল, ব্যাঙ্ক, ডাক ও আধা-সামরিক বাহিনীর মতো বড় দপ্তরগুলিতে প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারত।
কী কারণে তৈরি হয়েছিল এই আইনি জটিলতা?
গত ১১ মার্চ সুপ্রিম কোর্টের একটি নির্দেশকে কেন্দ্র করেই এই বিতর্কের সূচনা হয়। সেই রায়ে বলা হয়েছিল, কোনও ওবিসি প্রার্থী ‘ক্রিমি লেয়ার’-এর আওতায় পড়ছেন কি না, তা বিচার করার ক্ষেত্রে শুধু পিতা-মাতার বার্ষিক বেতনই শেষ কথা নয়; তাঁদের চাকরির পদমর্যাদা ও সামাজিক অবস্থানও খতিয়ে দেখতে হবে। এরপরেই কেন্দ্র সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়ে জানায়, অতীতের নিয়োগ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে এটি প্রয়োগ করা হলে দেশজুড়ে জটিলতা তৈরি হবে।
আদালতের চূড়ান্ত স্বস্তির রায়:
বিষয়টি বিবেচনা করে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, গত ১১ মার্চের এই নির্দেশ অতীতে সম্পন্ন হওয়া সরকারি নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। তবে যাদের চাকরি সংক্রান্ত আইনি মামলা ইতিমধ্যেই আদালতে বিচারাধীন রয়েছে, তাঁদের বিষয়গুলি পৃথকভাবে দেখা হবে। পুরনো কর্মী ও পরীক্ষার্থীদের চাকরি রক্ষা পাওয়ায় আপাতত বড়সড় স্বস্তি মিললেও, আগামী ৮ সপ্তাহের মধ্যেই কেন্দ্রকে ক্রিমি লেয়ার চিহ্নিতকরণের কাজটি শেষ করতে হবে।