‘আইনশৃঙ্খলা না পারলে পদত্যাগ করুন!’ প্রধান বিচারপতিকে খোলা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে সুপ্রিম কোর্টের নোটিসে বিপাকে কংগ্রেস

সুপ্রিম কোর্টের বর্তমান প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপত্তিকর মন্তব্য ও পোস্ট করার অভিযোগে এবার কঠোর পদক্ষেপ নিল শীর্ষ আদালত। কেন কেরলের কংগ্রেস সভাপতি সহ একাধিক দায়িত্বপ্রাপ্ত পদাধিকারীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা (Contempt of Court) দায়ের করা হবে না, সেই প্রশ্ন তুলে তাদের সরাসরি আইনি নোটিস পাঠাল সুপ্রিম কোর্ট। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের এই কড়া পদক্ষেপে জাতীয় রাজনীতিতে প্রবল শোরগোল শুরু হয়েছে।

ঠিক কী ঘটেছিল এবং মামলার সূত্রপাত কীভাবে?

দিনকয়েক আগে কেরলের কংগ্রেস নেতৃত্বের অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে উদ্দেশ্য করে একটি বিতর্কিত পোস্ট করা হয়েছিল। যদিও আইনি চাপের মুখে পরবর্তীতে সেই পোস্টটি সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ডিলিট বা মুছে দেওয়া হয়।

কিন্তু ততক্ষণে বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। প্রধান বিচারপতিকে জড়িয়ে করা ওই অবমাননাকর পোস্টের তীব্র নিন্দা জানিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলা দায়ের করেন আইনজীবী বিনীত জিন্দাল। শুক্রবার সেই মামলার শুনানি ছিল বিচারপতি অরবিন্দ কুমার এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির ডিভিশন বেঞ্চে। শুনানি শেষে কেরলের কংগ্রেস নেতৃত্বকে নোটিস পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত।

কেরল কংগ্রেসের সেই বিতর্কিত পোস্টটিতে ঠিক কী লেখা ছিল?

গত ১২ অক্টোবর কেরলের কংগ্রেস নেতৃত্ব প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে আক্রমণ করে যে পোস্টটি করেছিল, তাতে অত্যন্ত ঔদ্ধত্যপূর্ণ ভাষায় লেখা হয়েছিল:

‘প্রিয় সূর্য কান্ত, আইনশৃঙ্খলা আপনার এক্তিয়ারভুক্ত না হলে পদত্যাগ করুন। আমরা আপনার বিকল্প খুঁজে নেবো, বিষয়টি সামলে নিতে পারবে।’

বিচারব্যবস্থার প্রধানকে এই ধরনের সরাসরি হুমকি ও কটূক্তিকে কোনোভাবেই লঘুভাবে দেখেনি দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

‘সংবিধানই সর্বোচ্চ, কেউ তার ঊর্ধ্বে নয়!’: সুপ্রিম কোর্টের কঠোর পর্যবেক্ষণ

এদিনের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ অত্যন্ত কড়া ভাষায় সংবিধানের সর্বোচ্চ অবস্থান এবং বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতার কথা স্পষ্টভাবে মনে করিয়ে দিয়েছে। আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে দেশের কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলই আইন বা বিচারব্যবস্থার ঊর্ধ্বে নয়।

বিচারপতিদের বেঞ্চ পর্যবেক্ষণে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “সংবিধানই সর্বোচ্চ, কোনো ব্যক্তি অথবা রাজনৈতিক সংগঠন তার ঊর্ধ্বে নয়। বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা কোনো রাজনৈতিক দলের রাজনৈতিক সুবিধার স্বার্থে ব্যবহার করার জন্য নয়।”

আদালত আরও জানিয়েছে, বিচার বিভাগের কোনো রায় বা সিদ্ধান্তের গঠনমূলক সমালোচনা করার অধিকার সকলেরই রয়েছে। কিন্তু সেই বাকস্বাধীনতাকে অস্ত্র করে বিচারব্যবস্থার প্রতি প্রতিশোধপরায়ণ হওয়া কিংবা বিচার বিভাগের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় অযাচিত হস্তক্ষেপ করার বিন্দুমাত্র অধিকার কারও নেই।

পরিশেষে সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আদালতের কর্তৃত্বকে খাটো করা কিংবা অবমাননা করার যে কোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে যত প্রভাবশালী ব্যক্তিই হোক না কেন, বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *