‘এনসি ছাড়ার চেয়ে মৃত্যুই শ্রেয়!’ ফারুক-ওমরের মেগা বৈঠকের পর কাশ্মীরে বিধায়কদের বিদ্রোহে অভূতপূর্ব মোড়

গত এক সপ্তাহ ধরে জম্মু ও কাশ্মীর ন্যাশনাল কনফারেন্স (NC)-এর অন্দরে চলতে থাকা তীব্র রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের অবশেষে অবসান ঘটল। দলের ক্ষুব্ধ ও বিদ্রোহী বিধায়কদের একটি দল দলপ্রধান ফারুক আবদুল্লা এবং মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লার সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকে বসার পরেই বরফ গলতে শুরু করে। বৈঠক শেষে ফারুক আবদুল্লা সাফ জানিয়ে দেন, বিধায়কদের তোলা সমস্ত উদ্বেগ ও দাবি অত্যন্ত যথার্থ এবং তিনি তা সমাধানের পূর্ণ আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি, দলে ভাঙন ধরার সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে তিনি দাবি করেন, এনসি সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ রয়েছে।
“দল ছাড়ার চেয়ে মৃত্যুই শ্রেয়”: বরফ গলল ২ ঘণ্টার বৈঠকে
শ্রীনগরে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর বিদ্রোহী গোষ্ঠীর ১৪ জন বিধায়ক প্রকাশ্যে জানান যে, তাঁরা দলের প্রতি এবং ফারুক-ওমরের নেতৃত্বের প্রতি শতভাগ অনুগত। মন্ত্রিসভার সাম্প্রতিক রদবদলের পর প্রথম বিদ্রোহের সুর চড়ানো নেতা তথা বিধায়ক আবদুল মজিদ লারমি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “ন্যাশনাল কনফারেন্স ছেড়ে যাওয়ার চেয়ে বরং আমাদের মৃত্যুই শ্রেয়।”
একই সুর শোনা গেছে শ্রীনগরের সাতবারের বিধায়ক মোবারক গুলের গলাতেও। তিনিও পূর্বের ক্ষোভ ভুলে স্পষ্ট জানান, “আমরা আমাদের নেতৃত্বের সঙ্গেই আছি। আমরা সবাই একজোট এবং দলীয় নেতৃত্বের ওপর আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে।”
দলে ভাঙনের জল্পনা খারিজ ফারুকের
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ফারুক আবদুল্লা বলেন, “ন্যাশনাল কনফারেন্সে ভাঙন ধরা কিংবা দল টুকরো হয়ে যাওয়ার যে গুজব রটেছিল, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। যারা মনে করেছিল এই দলকে ভেঙে ফেলা সহজ, তাদের বোঝা উচিত এই দল কোনোদিন ভাঙবে না। বিধায়করা যে বিষয়গুলি তুলেছেন তা সম্পূর্ণ যুক্তিসঙ্গত। এর মধ্যে কিছু বিষয় তৎক্ষণাৎ সমাধান করা হবে এবং বাকি সমস্যাগুলি পর্যায়ক্রমে মিটিয়ে ফেলা হবে।”
পাশাপাশি তিনি পুনর্নিশ্চিত করেন যে, জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা এবং পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের মর্যাদা পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে দল আগের মতোই অনড় থাকবে।
কেন তৈরি হয়েছিল ক্ষোভ? কী ছিল বিধায়কদের দাবি?
উল্লেখ্য, ন্যাশনাল কনফারেন্সের ৪১ জন বিধায়কের মধ্যে অন্তত ১৮ জন বিধায়ক সম্প্রতি দলের ভেতরে জবাবদিহি নিশ্চিত করা, সরকার ও সংগঠনের ব্যাপক সংস্কার এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ক্ষমতায়নের দাবিতে সরব হয়েছিলেন। তাঁদের মূল দাবিগুলি ছিল:
-
উপদেষ্টা নাসির আসলাম ওয়ানিকে অপসারণ: বিধায়কদের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা ওয়ানির কারণেই সরকার, দলের নেতৃত্ব এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হচ্ছিল।
-
উপ-প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তদন্ত: উপ- মুখ্যমন্ত্রী সুরিন্দর চৌধুরীর বিরুদ্ধে “অসদাচরণ ও দুর্নীতির” গুরুতর অভিযোগ তুলে তাঁর কাছ থেকে অবিলম্বে পূর্ত (PWD) দপ্তর কেড়ে নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে এবং নিরপেক্ষ তদন্ত চাওয়া হয়েছে।
-
প্রশাসনিক সংস্কার ও ইশতেহার বাস্তবায়ন: অকার্যকর মন্ত্রীদের সরিয়ে নতুনদের সুযোগ দেওয়া, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনী ইশতেহার পূরণের জন্য সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ তৈরির দাবি তুলেছিলেন নেতারা।
তবে বিধায়করা পরিষ্কার জানিয়েছেন, তাঁরা কোনো অর্থেই “বিদ্রোহী” নন। দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা এবং এনসি-কে কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তির ব্যক্তিগত সম্পত্তি হওয়া থেকে বাঁচাতেই তাঁরা সংস্কারের এই লড়াই শুরু করেছিলেন। ফারুক ও ওমর আবদুল্লার হস্তক্ষেপে সেই দাবিগুলো বিবেচনার আশ্বাস মেলায় আপাতত কাশ্মীর উপত্যকার শাসকদলের আকাশে কাটল দুর্যোগের মেঘ।gf