প্যান্ট্রি কার নাকি ফ্যানের শর্ট সার্কিট? নিউ জলপাইগুড়িগামী ট্রেনে আগুনের নেপথ্যে কোন বড় গাফিলতি?

উৎসবের মরসুমে এনজেপিগামী ট্রেনে এক মর্মান্তিক ও শিউরে ওঠা অগ্নিকাণ্ডের খবর সামনে এসেছে। পাঞ্জাবের অমৃতসর থেকে পশ্চিমবঙ্গের নিউ জলপাইগুড়ির উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা ১২৫০৮ কর্মভূমি এক্সপ্রেস-এ শুক্রবার দুপুরে ভয়াবহ আগুন লাগে। আম্বালা বিভাগের রাজপুরা ও সরাই বানজারা স্টেশনের মধ্যবর্তী এলাকায় ট্রেনটি যখন চলছিল, ঠিক তখনই ট্রেনের ৪টি কামরা থেকে দাউদাউ করে আগুনের লেলিহান শিখা ও কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় ৩টি কামরা এবং আরও ১টি বগি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আতঙ্কে চিৎকার যাত্রীদের, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ভিডিও
ইতিমধ্যেই এই ঘটনার একাধিক শিউরে ওঠা ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, কীভাবে ট্রেনের একাধিক কামরা কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে এবং আতঙ্কে যাত্রীরা চিৎকার করে বাইরে বেরিয়ে আসছেন। ছট ও দীপাবলি উপলক্ষে ট্রেনটিতে অসম্ভব ভিড় ছিল। ট্রেনটিতে আগুন লাগার বিষয়টি নজরে আসতেই তড়িঘড়ি সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু করে চালক ট্রেনটিকে থামিয়ে দেন, যার ফলে এক বড়সড় বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব হয়েছে।
উত্তর রেলওয়ের সিপিআরও (CPRO) হিমাংশু শেখর উপাধ্যায় এবং আম্বালা ডিভিশনের রেল আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ঘটনার খবর পেয়েই দ্রুত রেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। অত্যন্ত স্বস্তির বিষয় হল, সময়মতো যাত্রীরা ট্রেন থেকে নেমে পড়তে পারায় এই ঘটনায় কোনও প্রাণহানি বা মারাত্মক হতাহতের খবর মেলেনি।
বিকল্প ট্রেনের ব্যবস্থা রেলের
আম্বালা ডিভিশনের সিনিয়র ডিসিএম যশনজিৎ সিং জানান, “এই মুহূর্তে আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার হল আতঙ্কিত যাত্রীরা যাতে নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে তাঁদের গন্তব্যে পৌঁছতে পারেন। দুর্ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরের নিকটতম স্টেশনে যাত্রীদের যাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। সেখান থেকে তাঁদের গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার জন্য ইতিমধ্যে একটি বিকল্প ট্রেনের বন্দোবস্ত করা হয়েছে।”
অগ্নিকাণ্ডের কারণ ঘিরে ধোঁয়াশা
ঠিক কীভাবে বা কোথা থেকে এই আগুনের সূত্রপাত, তা নিয়ে এখনও বিভ্রান্তি বজায় রয়েছে। রেল পুলিশ (GRP)-এর এসএইচও গুরপ্রীত সিংহ দাবি করেছেন, ট্রেনের একটি কামরার চালিত ফ্যানে শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয় এবং পরবর্তীতে তা দ্রুত অন্যান্য কামরাগুলিতে ছড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে প্রাথমিক সূত্রের কিছু খবরে প্যান্ট্রি কার থেকেও আগুন ছড়ানোর সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে।
ঘটনার আসল কারণ জানতে ইতিমধ্যই একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। পুরো বিষয়টি সব দিক থেকে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।