দীপাবলির আগেই দিল্লিতে মারাত্মক জরুরি অবস্থা! গ্যাস চেম্বারে পরিণত রাজধানী, বন্ধ স্কুল ও অফিস!

উৎসবের আলোয় মজে ওঠার ঠিক দু’দিন আগেই মারাত্মক বায়ুদূষণের গ্রাসে রাজধানী দিল্লি ও সংলগ্ন জাতীয় রাজধানী অঞ্চল (NCR)। বাতাসের গুণমান আশঙ্কাজনকভাবে নেমে যাওয়ায় গোটা এনসিআর অঞ্চল জুড়ে অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে ‘গ্রেডেড রেসপন্স অ্যাকশন প্ল্যান’ বা GRAP-এর তৃতীয় পর্যায়ের (Stage-III) কঠোর বিধিনিষেধ। দিল্লির গড় এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) ৩৮২-তে গিয়ে পৌঁছতেই পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি ভিত্তিতে এই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে কমিশন ফর এয়ার কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট (CAQM)।
নির্মাণকাজ স্তব্ধ, বন্ধ পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত স্কুল
গ্র্যাপ-৩ বিধিনিষেধ কার্যকর হতেই দিল্লি ও আশেপাশের এলাকায় একাধিক জরুরি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে:
-
নির্মাণ ও ভাঙার কাজে নিষেধাজ্ঞা: জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা ছাড়া সমস্ত ধরনের নির্মাণ এবং ভাঙার কাজ পুরোপুরি বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। মাটি খোঁড়া, পাইলিং, ট্রেঞ্চিং এবং খোলা জায়গায় রেডি মিক্স কংক্রিট (RMC) প্ল্যান্ট চালানোয় জারি হয়েছে নিষেধাজ্ঞা।
-
যানবাহনে কঠোর নিয়ন্ত্রণ: দিল্লি ও এনসিআর জেলাগুলিতে বিএস-৩ (BS-3) পেট্রল এবং বিএস-৪ (BS-4) ডিজেলচালিত চারচাকার গাড়ি চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি অন্য রাজ্য থেকে আসা ডিজেল চালিত বাসের রাজধানীতে প্রবেশের উপরেও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।
-
ধূলিকণা প্রতিরোধে কড়াকড়ি: বালি, সিমেন্ট-সহ অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী কাঁচা রাস্তা দিয়ে পরিবহণ করার উপর জারি হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। দূষণ ছড়ায় এমন পাথর ভাঙার কল (Stone Crushers), খনি এবং হট মিক্স প্ল্যান্ট বন্ধ রাখার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
-
জেনারেটর ও অফিসের নিয়ম: জরুরি পরিষেবা ব্যতীত ডিজেল জেনারেটর (DG Sets) চালানোয় নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। বাতাসে ধোঁয়ার মাত্রা কমাতে বেসরকারি সংস্থাগুলিকে কর্মীদের ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা হাইব্রিড মডেলে কাজ করানোর পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।
-
অনলাইন ক্লাস: বিষাক্ত বায়ুর মারাত্মক প্রভাব থেকে কোমোলমতি শিশুদের বাঁচাতে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সমস্ত স্কুলের সশরীরে পঠনপাঠন বন্ধ রেখে অনলাইন ক্লাসের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উৎসবের মুখে বাড়ছে আশঙ্কা
দীপাবলির ঠিক মুখে দিল্লির এই ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে পরিবেশবিদ ও সাধারণ মানুষের। উৎসবের দিনগুলিতে আতশবাজি পোড়ানো এবং যানবাহনের অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে বাতাসে দূষণের মাত্রা আরও বহু গুণ বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।