অপরাজিত মহারথীকে ধূলিসাৎ! লস অ্যাঞ্জেলেসের প্রথম মহিলা মেয়র পদে ইতিহাস গড়লেন কেরলের মেয়ে নিথ্যা!

আমেরিকার রাজনৈতিক ময়দানে এক অবিশ্বাস্য ও ঐতিহাসিক উলটপুরাণ ঘটিয়ে দিলেন এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত নারী। লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র পদের নির্বাচনে আমেরিকার রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে অপরাজিত থাকা হেভিওয়েট নেতা তথা শহরের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ মেয়র ক্যারেন বাসকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করেছেন ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট প্রার্থী নিথ্যা রমন। তাঁর এই অভাবনীয় বিজয় ক্যালিফোর্নিয়ার বাঘা বাঘা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদেরও সম্পূর্ণ হতবাক করে দিয়েছে।
দুর্বল প্রার্থী থেকে মেয়রের কুর্সিতে
নির্বাচনী লড়াইয়ের একেবারে শুরুতে নিথ্যা রমনকে একজন অত্যন্ত দুর্বল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হয়েছিল। কারণ তাঁর প্রতিপক্ষ ক্যারেন বাস এর আগে কখনও কোনো নির্বাচনে হারেননি। কিন্তু সমস্ত হিসাব নিকেশ উল্টে দিয়ে শেষ হাসি হেসেছেন নিথ্যা। দক্ষিণের রাজ্য কেরালার এক সাধারণ পরিবার থেকে মার্কিন মুলুকে পাড়ি দেওয়া নিথ্যা রমন পেশায় একজন কৃতি নগর পরিকল্পনাবিদ (আরবান প্ল্যানার)। হার্ভার্ড ও এমআইটি (MIT)-র মতো নামী প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা শেষ করে ২০২০ সালে তিনি প্রথম লস অ্যাঞ্জেলেস সিটি কাউন্সিলে জয় পেয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন। তিনি হন ওই কাউন্সিলে প্রথম এশীয়-আমেরিকান এবং প্রথম দক্ষিণ এশীয় সদস্য।
কেরল থেকে লস অ্যাঞ্জেলেস: এক অনন্য যাত্রা
ছয় বছর বয়সে পরিবারে হাত ধরে আমেরিকা যাওয়া নিথ্যা রমন আজ আমেরিকার দ্বিতীয় সর্বাধিক জনবহুল শহরের শীর্ষে। নির্বাচনী প্রচারের শুরু থেকেই তিনি জবরদস্ত পরিবর্তনের এজেন্ডা সামনে রেখেছিলেন। ত্রুটিপূর্ণ বর্তমান ব্যবস্থা এবং বারবার সাধারণ মানুষকে হতাশ করা নীতিগুলির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে তিনি তরুণ ভোটারদের মন জয় করেন। বিশেষ করে ২০২৫ সালের লস অ্যাঞ্জেলেসের ভয়াবহ দাবানল মোকাবেলায় তৎকালীন মেয়রের প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং উদাসীনতাকে হাতিয়ার করে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ান তিনি।
পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি ও মেগা ইভেন্টের দায়িত্ব
আগামী দিনে লস অ্যাঞ্জেলেসের গৃহহীন মানুষের পুনর্বাসন, সাশ্রয়ী মূল্যে আবাসন তৈরি, জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা পূরণ এবং শহরের পরিকাঠামো উন্নয়নের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ রয়েছে তাঁর কাঁধে। সবচেয়ে বড় কথা, নিথ্যার নেতৃত্বেই লস অ্যাঞ্জেলেসের পরবর্তী মেয়র হিসেবে ২০২৭ সালের সুপার বোল এবং ২০২৮ সালের ঐতিহাসিক গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক গেমস আয়োজনের সম্পূর্ণ গুরুদায়িত্ব সফলভাবে সম্পন্ন করতে হবে। কেরলের শেকড় ছোঁয়া এক নারীর এই বিশ্বজয় এখন গোটা ভারতীয় তথা প্রবাসী সম্প্রদায়ের কাছে এক অন্যতম গর্বের অধ্যায়।