“সংবিধানের ওপরে কেউ নয়!” সিজেআই-কে নিয়ে পোস্ট করে চরম বিপাকে কংগ্রেস, সুপ্রিম কোর্টের কড়া হুশিয়ারি

বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা এবং দেশের প্রধান বিচারপতির সম্মান রক্ষা নিয়ে অত্যন্ত কড়া বার্তা দিল দেশের শীর্ষ আদালত। ভারতের প্রধান বিচারপতি (CJI) সূর্যকান্তকে লক্ষ্য করে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপত্তিকর পোস্ট করার অভিযোগে কেরল প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি (KPCC)-র সমস্ত পদাধিকারীকে আদালত অবমাননার নোটিশ (Contempt Notice) জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট।
শুক্রবার বিচারপতি অরবিন্দ কুমার এবং বিচারপতি বিপুল এম পঞ্চোলির সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছে। শুনানিকালে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, সংবিধানই সর্বেসর্বা এবং দেশের কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক সংগঠনই সংবিধানের ঊর্ধ্বে নয়।
“বিচারব্যবস্থা কোনো রাজনৈতিক সুবিধার বিষয় নয়”
আদালতের বিচারপতির বেঞ্চ অত্যন্ত কঠোর ভাষায় জানিয়েছে যে, আদালতের কাজের সমালোচনা করা যেতেই পারে, কিন্তু মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে বিচার প্রশাসনের কাজে বাধা দেওয়া বা বিচারকদের ভয় দেখানোর অপচেষ্টা কখনই বরদাস্ত করা হবে না।
আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী— “বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতার বিষয়টি কোনো ‘রাজনৈতিক সুবিধার’ বিষয় হতে পারে না। আদালতের ক্ষমতার জন্য কোনো রাজনৈতিক সমর্থনের প্রয়োজন নেই, কারণ বিচারব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে আইনের শাসনের ওপর প্রতিষ্ঠিত।” আদালতের অধিকার বা মর্যাদাকে দুর্বল করার যে কোনো ক্ষুদ্র প্রচেষ্টার সঙ্গে অত্যন্ত কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে বলেও স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
কী ছিল গোটা ঘটনা?
গত ১২ অক্টোবর কেরল প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির অফিশিয়াল এক্স (X) হ্যান্ডেল থেকে দেশের প্রধান বিচারপতিকে নিশানা করে একটি পোস্ট করা হয়। মুহূর্তের মধ্যে সেই পোস্টটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায় এবং তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। রাজনৈতিক মহলে তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়ে বিতর্কিত ওই পোস্টটি দ্রুত ডিলিট করে দেওয়া হয়। সে সময় কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সাফাই দেওয়া হয়েছিল যে, এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তবে তাতেও রক্ষা মিলল না। খোদ প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে এমন অবমাননাকর পোস্টের আইনি পরিণতি এড়ানো সম্ভব হয়নি। এই মামলায় আদালত অবমাননার ফৌজদারি বা দেওয়ানি ধারাগুলি ঠিকমতো প্রযোজ্য কি না, তা খতিয়ে দেখার জন্য একজন বিশিষ্ট জ্যেষ্ঠ আইনজীবীকে ‘অ্যামিকাস কিউরি’ (Amicus Curiae) বা ন্যায় মিত্র হিসেবে নিয়োগ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে এই অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়ে দেশের অ্যাটর্নি জেনারেল আর ভেঙ্কটরমণীরও সহযোগিতা চেয়েছে আদালত। আগামী দিনে এই আইনি লড়াই কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল।