শীতের সকালেই নিমেষে দূর হবে ক্লান্তি! ওজন কমানো থেকে রোগ প্রতিরোধে মহৌষধি এই পানীয়, বাড়িতেই বানান ‘কাশ্মীরি কাওয়া’

শীতকাল মানেই সঙ্গে নিয়ে আসে কনকনে ঠান্ডা বাতাস, শরীরে আড়ষ্টতা আর এক ধরনের আলস্য। এমন পরিস্থিতিতে নিজেকে কর্মক্ষম রাখা এবং ভিতর থেকে উষ্ণ রাখা অত্যন্ত জরুরি। হাড়কাঁপানো শীতে নিয়মিত চা বা কফির স্বাস্থ্যকর ও ঐতিহ্যবাহী বিকল্প হিসাবে ‘কাশ্মীরি কাওয়া’ হতে পারে একটি চমৎকার পছন্দ। এটি কেবল সুগন্ধি ও মশলাদার পানীয়ই নয়, বরং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও হজমশক্তি বাড়াতেও দারুণ সাহায্য করে। একসময় যা ছিল কাশ্মীরি আতিথেয়তার অন্যতম প্রধান প্রতীক, সেই দারুণ পানীয়টি এখন আপনি খুব সহজেই নিজের রান্নাঘরে তৈরি করে নিতে পারেন। জেনে নেওয়া যাক, এটি তৈরির সঠিক ও সহজ পদ্ধতিটি কী।
কাশ্মীরি কাওয়া আসলে কী?
কাশ্মীরি কাওয়া হল একটি ঐতিহ্যবাহী ভেষজ পানীয়। এটি গ্রিন টি, কেশর, গোটা মশলা এবং ড্রাই ফ্রুটের এক চমৎকার মিশ্রণে তৈরি করা হয়। এই পানীয়টির একটি প্রধান বিশেষত্ব হল, এতে কোনও দুধ ব্যবহার করা হয় না। আর এই কারণেই এটি বেশ হালকা এবং পেট ও স্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত সহজে হজমযোগ্য।
কাওয়া তৈরির প্রয়োজনীয় উপকরণ
৪ কাপ জল, ২ চা চামচ গ্রিন টি বা কাওয়া পাতা, ২টি দারুচিনির কাঠি, ৪ থেকে ৬টি সবুজ এলাচ (হালকা থেঁতো করা), ৪ থেকে ৬টি কেশর, ৬ থেকে ৮টি মিহি করে কাটা কাঠবাদাম এবং ১ চা চামচ মধু বা মিশ্রি (স্বাদ অনুযায়ী পরিমাণ ঠিক করে নিন)।
ঘরেই কীভাবে তৈরি করবেন নিখুঁত কাশ্মীরি কাওয়া?
প্রথমে একটি পাত্রে জল ফুটিয়ে নিন। জল ফুটতে শুরু করলে তাতে দারুচিনির কাঠি ও থেঁতো করা এলাচ দিয়ে দিন। কম আঁচে ৩ থেকে ৪ মিনিট জ্বাল দিন, যাতে মশলার নির্যাস ও সুগন্ধ জলের সঙ্গে ভালোভাবে মিশে যায়। এরপর ফুটন্ত জলে গ্রিন টি বা কাওয়া পাতা দিয়ে ১ থেকে 2 মিনিট ফুটিয়ে নিন। খেয়াল রাখবেন যেন বেশিক্ষণ না ফোটানো হয়, কারণ এতে কাওয়া তেতো হয়ে যেতে পারে। গ্যাস বন্ধ করে দিন এবং পাত্রে কেশরগুলি দিয়ে দিন। পাত্রটি ঢেকে ১ মিনিট রেখে দিন। গরম গরম কাওয়া তৈরি। কাপে ছেঁকে নিন এবং উপরে মিহি করে কাটা কাঠবাদাম ছড়িয়ে দিন। কিছুটা ঠান্ডা হয়ে এলে (পান করার উপযোগী তাপমাত্রায় এলে) এতে মধু মিশিয়ে নিন।
নিখুঁত কাওয়া তৈরির ৫টি জরুরি টিপস
মশলার গুণমান: সবসময় তাজা ও গোটা মশলা ব্যবহার করুন। এতে কাওয়ার স্বাদ ও গুণাগুণ উভয়ই বৃদ্ধি পায়। গ্রিন টি দেওয়ার সময়: গ্রিন টি একদম শেষে যোগ করুন এবং বেশিক্ষণ ফোটাবেন না, না হলে এটি তেতো হয়ে যেতে পারে। মধু ব্যবহারের সঠিক নিয়ম: কাওয়া ফুটন্ত অবস্থায় কখনওই মধু দেবেন না। গ্যাস বন্ধ করার পর এবং কাওয়া কিছুটা ঠান্ডা হয়ে এলে তবেই মধু মেশান। জাফরানের গুরুত্ব: জাফরান কেবল সুন্দর রঙ ও সুগন্ধই দেয় না, বরং শীতকালে শরীর গরম রাখতেও দারুণ সাহায্য করে। ড্রাই ফ্রুটস দিয়ে পুষ্টিগুণ বাড়ান: কাওয়াকে আরও স্বাস্থ্যকর করতে কাঠবাদামের পাশাপাশি পেস্তা বা আখরোটও যোগ করতে পারেন।
কখন এবং কতটা পান করবেন?
সুস্থ থাকতে সারাদিনে ১ থেকে ২ কাপ কাওয়ায়া পান করাই যথেষ্ট। সকালে, সন্ধ্যায় অথবা তীব্র শীতের বাইরে থেকে ঘরে ফেরার পর এটি পান করা সবচেয়ে উপকারী বলে মনে করা হয়। এই শীতে, দারুণ স্বাদের পাশাপাশি স্বাস্থ্যেরও খেয়াল রাখতে চাইলে, আপনার দৈনন্দিন রুটিনে এক কাপ গরম কাশ্মীরি কাওয়া অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত করুন।