ট্রেনের টিকিটে আকাল! উৎসবের মরশুমে পঞ্জাব থেকে বিহার অবধি চলা স্পেশাল ট্রেনের নেপথ্যে রয়েছে কোন মন্ত্র?

দিওয়ালি আর ছট পুজো মানেই বাড়ি ফেরার তাড়া আর টিকিটের জন্য এক অন্তহীন লড়াই। প্রতি বছর উৎসবের এই মরশুমে লাখ লাখ যাত্রীর ভিড় সামাল দিতে কোমর বেঁধে নামে ভারতীয় রেল। বিহার, উত্তর প্রদেশ কিংবা দিল্লির মতো ব্যস্ত রুটগুলোতে হাজার হাজার স্পেশাল ট্রেন চালানোর ঘোষণা করা হয়। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, এই বিপুল সংখ্যক স্পেশাল ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত আসলে কে নেয়? আর এত ট্রেন চালানোর জন্য হঠাৎ করে এতগুলো অতিরিক্ত কোচ বা বগিই বা কোথায় থেকে জোগাড় করে রেলওয়ে?

সাধারণত উৎসবের মরশুমে কোন রুটে যাত্রীদের চাপ কেমন থাকবে, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ সমীক্ষা করে রেলের অপারেশন ও কমার্শিয়াল বিভাগ। এরপর যাত্রীদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে রেল বোর্ডের উচ্চপর্যায়ের আধিকারিকরা এই ফেস্টিভ্যাল স্পেশাল ট্রেনগুলোর চালুর প্রস্তাবে চূড়ান্ত অনুমোদন দেন। রেলওয়ের এই সুপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার ফলেই প্রতি বছর হাজার হাজার অতিরিক্ত ট্রেনের চাকা ঘোরে।

অন্যদিকে, সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো এই ট্রেনগুলোর জন্য কোচ বা বগিগুলো কোত্থেকে আসে? রেল সূত্র অনুযায়ী, এই স্পেশাল ট্রেনগুলোর জন্য নতুন করে কোনো আলাদা কোচ তৈরি করা হয় না। বরং বিভিন্ন জোনের মেইনটেন্যান্স ডিপোতে অলস বা রিজার্ভ হিসেবে পড়ে থাকা কোচ, রেমোটেড রেক এবং বিভিন্ন মেইনটেন্যান্স উইন্ডোর সময় বাঁচানো কোচগুলোকে নিখুঁতভাবে কাজে লাগানো হয়। পাশাপাশি, যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে প্রতিটি কোচকে ট্র্যাকে নামানোর আগে কঠোর যান্ত্রিক পরীক্ষা ও সুরক্ষার মানদণ্ড যাচাই করা হয়, যাতে যাত্রীরা নিরাপদে ও স্বস্তিতে আপনজনদের কাছে পৌঁছাতে পারেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *