মোবাইল ছেড়ে রঙের দুনিয়ায় পড়ুয়ারা! মেদিনীপুরের স্কুলে আবির ও ফুলে ফুটিয়ে তোলা হলো জগন্নাথ দেবের অবয়ব

রংবেরঙের আবির, তাজা ফুল আর মাটির প্রদীপের স্নিগ্ধ আলোয় সেজে উঠল স্কুল চত্বর। ডিজিটাল স্ক্রিন ও মোবাইল গেমের দুনিয়া থেকে দূরে সরে দীপাবলির (Diwali 2026) প্রাক্কালে দারুণ এক সৃজনশীল প্রতিযোগিতায় মেতে উঠল পড়ুয়ারা। কোথাও নিখুঁত জ্যামিতিক নকশা, কোথাও বর্ণিল ফুলের বাহার, আবার কোথাও নিপুণ হাতে আবির দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে জগন্নাথ দেবের অপরূপ অবয়ব। মেদিনীপুর শহরের ডিএভি পাবলিক স্কুলের পড়ুয়াদের এই শিল্পভাবনা ও নান্দনিক উৎকর্ষ এখন গোটা শহরবাসীর নজর কেড়েছে।

আবির, ফুল আর প্রদীপে ফুটল খুদেদের শিল্পভাবনা

উৎসবের আমেজকে স্বাগত জানাতে এবং পড়ুয়াদের সুপ্ত প্রতিভাকে বিকশিত করতে ডিএভি পাবলিক স্কুলের পক্ষ থেকে এক জমজমাট রঙ্গোলি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতায় উপচে পড়েছিল উৎসাহ। সকাল থেকেই হরেক রকমের রঙিন আবির, গাঁদা ও গোলাপের পাপড়ি এবং প্রদীপ নিয়ে স্কুল চত্বরে হাজির হয় পড়ুয়ারা।

একে অপরকে টেক্কা দিতে রঙের বৈচিত্র্য এবং নকশার অভিনবত্ব ফুটিয়ে তোলে তারা। শুধু একা নয়, দলবদ্ধভাবে কাজ করার এক অপূর্ব দৃশ্য দেখা যায় প্রতিযোগিতায়। কেউ কাঠামোর নকশা তৈরি করেছে, কেউ রঙ ভরাট করেছে, আবার কেউ ফুল ও প্রদীপ সাজিয়ে নিখুঁত রূপ দিয়েছে পুরো সৃষ্টিকে।

পড়াশোনার বাইরে সৃজনশীলতার এক অনবদ্য মঞ্চ

অংশগ্রহণকারী পড়ুয়াদের মতে, বইয়ের বোঝা আর পড়াশোনার একঘেয়ে চাপের বাইরে এই ধরনের রঙিন কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পেরে তারা অত্যন্ত আনন্দিত। উৎসবের আগাম আনন্দের পাশাপাশি বন্ধুদের সঙ্গে মিলে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাদের কাছে এক অন্যরকম পাওনা।

বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা সোমা চট্টরাজ বলেন, “এই ধরনের প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার মানসিকতা এবং সৃজনশীল চিন্তাভাবনার বিকাশ ঘটে। প্রতিটি শিশুর মধ্যেই কোনো না কোনো প্রতিভা লুকিয়ে থাকে, সঠিক মঞ্চ পেলে তা সুন্দরভাবে প্রকাশ পায়।”

শিক্ষামহলের মতে, বর্তমান প্রজন্মের শিশু-কিশোররা যখন বেশিরভাগ সময় ডিজিটাল স্ক্রিন বা মোবাইলে ব্যস্ত থাকে, সেই সময়ে এই ধরনের হস্তশিল্প ও নান্দনিক চর্চা তাদের মানসিক বিকাশকে আরও তরতাজা করে তোলে। দীপাবলি মানেই শুধু আলোর রোশনাই নয়—রং, শিল্প আর সৃষ্টির মেলবন্ধনে ডিএভি স্কুলের পড়ুয়ারা প্রমাণ করে দিল যে বাংলার খুদেদের সৃজনশীলতা আজও অমলিন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *