“যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তান থেকে আসছে কোটি কোটি টাকা!” ককরোচ জনতা পার্টির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক কেন্দ্র, তোলপাড় দেশজুড়ে

দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং রাজনীতিতে আবারও শুরু হয়েছে ব্যাপক তোলপাড়। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র সঙ্গে যুক্ত নেতাকর্মী ও প্রচারকারীদের বিরুদ্ধে ভারত-বিরোধী বিদেশি সংস্থা এবং ‘ডিপ স্টেট অপারেটিভস’ (রাষ্ট্রের গোপনে সক্রিয় দেশবিরোধী শক্তি)-এর থেকে বেআইনি আর্থিক অনুদান নেওয়ার মারাত্মক অভিযোগ তুললেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। তাঁর দাবি, এই দলটি বিদেশি অর্থপুষ্ট এনজিও এবং ভারতের অস্তিত্ববিরোধী শক্তিগুলির দাবার বোড়ে হিসেবে কাজ করছে।

বৃহস্পতিবার বেঙ্গালুরুতে এক জরুরি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্পষ্ট দাবি করেন যে, সিজেপি-র হয়ে প্রচার চালানো শীর্ষ ব্যক্তিদের বিদেশি ফান্ডিংয়ের পক্ষে নিশ্চিত তথ্য-প্রমাণ কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের হাতে এসেছে।

“আমেরিকা ও পাকিস্তান থেকে আসছে টাকা!”—জিতেন্দ্র সিং-এর বিস্ফোরক দাবি

সংবাদ সম্মেলনে সরাসরি নাম উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং বলেন, “যথেষ্ট তথ্য ও প্রমাণ মিলেছে যে সিজেপি কর্মীরা বেআইনি উৎস থেকে টাকা পাচ্ছে। অভিজিৎ দীপকে সরাসরি মার্কিন দাতাদের থেকে অর্থ পাচ্ছেন, অন্যদিকে আশুতোষ রাঙ্কাকে নিয়মিত তহবিল জোগাচ্ছেন একাধিক পাকিস্তানি রাজনীতিবিদ। বিদেশি অর্থপুষ্ট এনজিও এবং আন্তর্জাতিক ভারত-বিরোধী শক্তিগুলি একত্রিত হয়ে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে অরাজকতা তৈরি করতে ও ভুয়ো প্রচার ছড়াতে এদের ব্যবহার করছে।”

পাল্টা হুঙ্কার সিজেপি-র: “যা খুশি তাই বলছেন মন্ত্রী!”

কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে আসতেই তীব্র ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। সমস্ত দাবি ভিত্তিহীন ও মনগড়া বলে উড়িয়ে দিয়ে উচ্চ সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তিদের মন্তব্যের রাজনৈতিক নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে দলটি।

সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) সিজেপি-র তরফে পোস্ট করে লেখা হয়, “এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক একটি বিষয় যে একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কোনো দায়বদ্ধতা ছাড়াই যা ইচ্ছা বলে পার পেয়ে যাচ্ছেন। এই ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্যের কারণেই আজ সর্বোচ্চ পদে আসীন ব্যক্তিদের কথার কোনো গ্রহণযোগ্যতা বা মূল্য সাধারণ মানুষের কাছে থাকছে না।”

মোদী ও মোহন ভাগবতকে খোলামেলা বিতর্কের চ্যালেঞ্জ প্রিয়াঙ্ক খাড়গের

এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে রাজ্য তথা জাতীয় রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও বিজেপির এমন আক্রমণকে তীব্রভাবে আক্রমণ করা হয়েছে। কর্ণাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিয়াঙ্ক খাড়গে বিজেপির করা ‘কংগ্রেস ও বিরোধীরা বিদেশি তহবিল পাচ্ছে’ সংক্রান্ত অভিযোগের জবাবে সুর চড়িয়েছেন।

প্রশ্ন তুলে খাড়গে বলেন, অভিযোগ যখন এত মারাত্মক, তখন কেন্দ্রীয় সরকার কেন আনুষ্ঠানিকভাবে আদালতের সামনে বা সংবাদমাধ্যমে কোনো প্রমাণ পেশ করছে না? সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে এই বিষয়ে উন্মুক্ত বিতর্কে বসার চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি কটাক্ষের সুরে প্রস্তাব দেন, “প্রধানমন্ত্রী আসুন, এই বিতর্কের সঞ্চালনা করুন আরএসএস (RSS) প্রধান মোহন ভাগবত।”

একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং আইবি (IB) ও ‘র’ (RAW)-এর মতো দেশের শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থাগুলির নীরবতা ও অবস্থান নিয়েও কড়া প্রশ্ন তোলেন কর্ণাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। একদিকে ক্রাইম ব্রাঞ্চের সমন ও অন্যদিকে পাক-আমেরিকান অর্থযোগের বিস্ফোরক অভিযোগ—সব মিলিয়ে দেশের রাজনীতিতে সিজেপি ইস্যু এখন চরম উত্তেজনার পারদ চড়াচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *