. সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধনী ম্যাচেই পাকিস্তানকে সপাটে হারাল ভারত! জোড়া গোলে মহাতারকা সুহেল ভাট

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের (SAFF Championship 2026) হাই-ভোল্টেজ উদ্বোধনী ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে পরাজিত করে টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত সূচনা করল ভারতীয় ফুটবল দল। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার ঐতিহাসিক জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই রোমাঞ্চকর ম্যাচে ভারতের পক্ষে ম্যাচের ফলাফল ছিল ৩-২। ৯০ মিনিটের নির্ধারিত খেলা পর্যন্ত ৩-০ গোলে নিরঙ্কুশ ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও ম্যাচের অতিরিক্ত বা সংযুক্ত সময়ে পরপর দুটি গোল হজম করে বসল ভারত। ফলে শেষ মুহূর্তে জয়ের আনন্দ কিছুটা ম্লান হলেও শেষ পর্যন্ত জয় ছিনিয়ে মাঠ ছাড়ল ব্লু টাইগার্সরা। তবে ডিফেন্সের পুরনো দুর্বলতা ও শেষ মুহূর্তে গোল হজম করার এই চেনা রোগ নিয়ে ফের প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।

জোড়া গোলে ম্যাচের হিরো সুহেল আহমেদ ভাট

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এই লড়াইয়ে ভারতের জয়ের প্রধান নায়ক হয়ে উঠলেন জম্মু ও কাশ্মীরের তরুণ স্ট্রাইকার সুহেল আহমেদ ভাট (Suhail Ahmad Bhat)। এদিন তিনি প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে একাই দুই গোল করে ম্যাচের রং কেড়ে নেন। ভারতের হয়ে অপর গোলটি করেন মংলেনথান কিপগেন (Manglenthang Kipgen)।

ম্যাচের শুরু থেকেই পাক রক্ষণকে চাপে ফেলে আক্রমণ শানাতে শুরু করে ভারত।

  • প্রথম গোল (১৩ মিনিট): বাঁ প্রান্ত দিয়ে দুর্দান্ত গতিতে বল নিয়ে পাকিস্তানের অর্ধে ঢুকে পড়েন মহম্মদ সুহেল। তাঁর নিখুঁত পাস থেকে বল পেয়ে সহজেই প্রথম গোল করে ভারতকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন সুহেল আহমেদ ভাট।

  • দ্বিতীয় গোল (১৯ মিনিট): প্রথম গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই মাত্র ৬ মিনিটের ব্যবধানে ফের গোল। মাঝমাঠ থেকে মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের সতীর্থ অভিষেক সূর্যবংশীর বাড়ানো পাস ধরে পাকিস্তানের ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষককে পরাস্ত করে ব্যবধান ২-০ করেন সেই সুহেলই।

  • তৃতীয় গোল (৩২ মিনিট): প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই ভারতের পক্ষে তৃতীয় গোলটি আসে। নিজেদের অর্ধ থেকে বল টেনে পাকিস্তানের বক্সে হানা দেন নৌফল পুথেনভেট্টিল নৌশাদ। নিজে শট না নিয়ে তিনি বল বাড়িয়ে দেন কিপগেনের উদ্দেশ্যে, আর ভুল করেননি কিপগেন। ৩-০ গোলে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে ভারত।

পাকিস্তানের পেনাল্টি মিস ও শেষ মুহূর্তের কামব্যাক

ম্যাচের ৩৪ মিনিটে বক্সের ভেতরে পাকিস্তানের খট্টককে ফাউল করেন ভারতের সূর্যবংশী, যার ফলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। কিন্তু পাকিস্তানের শায়ক দোস্তের নেওয়া শট বারের উপর দিয়ে বাইরে চলে যাওয়ায় বড় বিপদ থেকে বেঁচে যায় ভারত।

পুরো ম্যাচজুড়ে ৩-০ গোলে এগিয়ে থাকলেও খেলার অন্তিম মুহূর্তে অর্থাৎ দ্বিতীয়র্ধের সংযুক্ত সময়ে খেই হারায় ভারতীয় রক্ষণ। পাকিস্তানের হয়ে নাজিব উল্লাহ প্রথম গোল শোধ করার পর, ঠিক তার পরেই ব্যবধান কমান আলি খান গাজি (৩-২)। শেষ পর্যন্ত রক্ষা জমাট রাখতে না পারায় কোচিং স্টাফদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেললেও, শেষ বাঁশি বাজার পর স্বস্তির ৩ পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছাড়ে ভারত। আসন্ন ম্যাচগুলিতে চ্যাম্পিয়ন হতে হলে রক্ষণভাগের এই দুর্বলতা দ্রুত কাটিয়ে উঠতে হবে বলেই মনে করছেন ক্রীড়া বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *