“বাবরের নামে মসজিদ নয়, ৬ তারিখ রাস্তা আটকালে পরিণতি ভয়াবহ হবে!”-হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদ পুনর্নির্মাণের দাবিকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। নওদার বিতর্কিত বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের রাজ্য সরকারকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে ৬ ডিসেম্বর প্রস্তাবিত মসজিদের স্থানে জমায়েতের ডাকের পরেই কড়া অবস্থান গ্রহণ করা হয়েছে। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, বাবরের নামে কোনও মসজিদ তৈরি করতে দেওয়া হবে না।

“বাবরের নামে কোনোভাবেই অনুমতি নয়”

হুমায়ুন কবীরের আবেদনের জবাবে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলা হয়েছে, বাবরের নামে মসজিদ তৈরির কোনও নকশা বা অনুমতি কোনওভাবেই অনুমোদন করা হবে না। পাশাপাশি, ৬ ডিসেম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধের যে হুঁশিয়ারি হুমায়ুন দিয়েছেন, সে প্রসঙ্গে কড়া বার্তা দিয়ে বলা হয়— ‘রাস্তা জ্যাম করার অধিকার কারও নেই। সরকার কোনও দুর্বল সরকার নয়। আইন শৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে চাইলে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে সরকার বাধ্য থাকবে।’

মুর্শিদাবাদের প্রবীণ ও গুণী ব্যক্তিত্বদের স্মরণ করিয়ে দিয়ে আরও বলা হয়, “আব্দুস সাত্তার, নুরুল ইসলাম চৌধুরী বা হাবিবুর রহমান সাহেবের মতো ব্যক্তিত্বরা এই জেলার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। বহু শিক্ষাবিদ ও সৎ মানুষ আছেন। তাঁদের নামে মসজিদ বা স্মৃতিচিহ্ন হলে আপত্তি নেই, কিন্তু বাবরের নামে কিছুতেই অনুমতি মিলবে না।”

ডায়মন্ড হারবার কাণ্ড: সরকারি রাজস্ব পাচারের বিস্ফোরক অভিযোগ

অন্যদিকে, ডায়মন্ড হারবারে একটি রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ উদ্ধারের পর রাজ্যের রাজস্ব আদায় ব্যবস্থা নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে। দাবি করা হয়েছে, রাজ্যের সরকারি কোষাগারে জমা পড়ার বদলে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের অফিসে যাচ্ছিল এবং পুলিশের হাতে ইতিমধ্যেই এর শক্ত প্রমাণ এসেছে।

পরিসংখ্যান তুলে ধরে দেখানো হয়েছে, ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত রাজ্যে প্রায় ৩৭,২৮১ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে, যা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৪,০০০ কোটি টাকা বেশি।

কোথায় যেত এই অতিরিক্ত অর্থ?

প্রশ্ন তোলা হয়েছে, নতুন কোনো পাথর বা বালির খনি নিলাম না হওয়া সত্ত্বেও ছ’মাসে কীভাবে এই বিপুল পরিমাণ অতিরিক্ত রাজস্ব এলো? আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যে, পুরো বছরের হিসেবে এই অর্থের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৭ থেকে ৮ হাজার কোটি টাকা। অভিযোগ তোলা হয়েছে, গত বছরও প্রায় ৪,০০০ কোটি টাকার অতিরিক্ত রাজস্ব সরকারি সংস্থায় জমা না পড়ে একটি চক্রের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয় এবং সেই টাকা বিদেশেও পাচার করা হয়েছে। সময় এলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *