“উচ্ছেদ চলবে না!” মুর্শিদাবাদ জংশনে টাঙ্গা চালকদের জীবিকা কাড়ার চেষ্টায় ফুটল ক্ষোভ, এক মঞ্চে জোট বাঁধল বাম-কংগ্রেস!

ঐতিহাসিক শহর মুর্শিদাবাদের শতবছরের পুরনো সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যবাহী টাঙ্গা (ঘোড়ার গাড়ি) চালকদের জীবিকা এবার তীব্র সংকটের মুখে। মুর্শিদাবাদ জংশন স্টেশন চত্বরে থাকা দীর্ঘদিনের প্রাচীন টাঙ্গা স্ট্যান্ডটি হঠাতই উচ্ছেদের চক্রান্ত করা হচ্ছে—এমনই মারাত্মক অভিযোগ তুলে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন স্থানীয় চালকরা। আর টাঙ্গা চালকদের রুটি-রুজি ও প্রাচীন ঐতিহ্য রক্ষার দাবিতে বুধবারে একজোট হয়ে ময়দানে নামল বাম ও কংগ্রেস নেতৃত্ব।
স্টেশন চত্বরে জোরদার যৌথ প্রতিবাদ
বুধবার দুপুরে মুর্শিদাবাদ রেল স্টেশন চত্বরে বাম ও কংগ্রেসের যৌথ উদ্যোগে এক বিশাল প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়। এদিন শত শত টাঙ্গা চালক তাঁদের ঘোড়ার গাড়ি নিয়ে লাল পতাকা ও তেরঙা পতাকা হাতে প্রতিবাদে অংশ নেন। বক্তাদের দাবি, মুর্শিদাবাদের নবাবী আমল ও পর্যটন শিল্পের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে রয়েছে এই টাঙ্গা চালকদের ইতিহাস। প্রতিদিন দেশ-বিদেশের হাজার হাজার পর্যটক এই টাঙ্গায় চড়েই ঐতিহ্যবাহী শহরটি ঘুরে দেখেন। কিন্তু হঠাৎ করে কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না করে রেল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের এই স্ট্যান্ড উচ্ছেদের চেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
“জীবিকা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা বরদাস্ত নয়”
প্রতিবাদ সভা থেকে বাম ও কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন যে, এই ঐতিহ্যবাহী টাঙ্গা চালকদের রুটি-রুজির ওপর আঘাত হানা হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথ বেছে নেওয়া হবে। দ্রুত সমাধান এবং চালকদের স্থায়ী পুনর্বাসন নিশ্চিত করার জন্য রেল প্রশাসনের কাছে লিখিত স্মারকলিপি জমা দেওয়ারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঘটনার জেরে বুধবার দুপুর নাগাদ স্টেশন চত্বরে কিছুক্ষণের জন্য যান চলাচল থমকে যায়।