আমেরিকার হার থেকে সোজা দিল্লির নির্বাচন কমিশন! পবন খেরার এই চাঞ্চল্যকর মন্তব্যে তোলপাড় রাজনৈতিক মহল

সুদূর আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অপ্রত্যাশিত পরাজয় এবং রিপাবলিকান পার্টির ধাক্কা খাওয়ার রেশ এবার সরাসরি এসে পড়ল ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে। মার্কিন ভোট প্রক্রিয়ার ফলাফলকে হাতিয়ার করে ভারতের নির্বাচন কমিশন ও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারকে অত্যন্ত শ্লেষাত্মক ভঙ্গিতে নিশানা করলেন কংগ্রেসের শীর্ষস্থানীয় নেতা পবন খেরা (Pawan Khera)। শুধু তাই নয়, এর আড়ালে কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাজস্থানের রাজ্য সরকারকেও তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি।

কী বলেছেন পবন খেরা?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে খোঁচা দিয়ে কংগ্রেস নেতা পবন খেরা সরাসরি মন্তব্য করেন— “ট্রাম্প যদি জ্ঞানেশ কুমারকে আমেরিকায় নিজের দেশে নিয়ে যেতেন, তাহলে তিনি নির্বাচনে নিশ্চিতভাবেই জিতে যেতেন।” রাজনৈতিক মহলের মতে, ভারতের নির্বাচন কমিশনের কার্যপদ্ধতি ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে বিরোধীরা যে লাগাতার প্রশ্ন তুলে আসছে, তারই পদাঙ্ক অনুসরণ করে এই ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেছেন পবন খেরা।

রাজস্থান সরকার ও প্রশাসনকে আক্রমণ:

এদিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কেবল কেন্দ্র বা নির্বাচন কমিশন নয়, রাজস্থানের বর্তমান বিজেপি সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মাকেও তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন পবন খেরা। রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ভজনলাল শর্মা হলেন সম্পূর্ণ এক “ভুল বোঝাবুঝির ওপর নির্ভরশীল মুখ্যমন্ত্রী”, যাঁর সরকারের ওপর সাধারণ মানুষ ইতিমধ্যে সম্পূর্ণ আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন।

রাজ্যের গ্রামীণ পরিস্থিতি তুলে ধরে পবন খেরা অভিযোগ করেন যে, চরম খরা ও সংকটের মুখে দাঁড়িয়েও কৃষকদের সময়মতো কোনো ধরনের ত্রাণ দিচ্ছে না সরকার। বাজরার ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (MSP) থেকে শুরু করে পশুখাদ্যের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় ও কৃষিজীবী মানুষের জীবন-জীবিকার বিষয়গুলি অবহেলিত হচ্ছে। এছাড়া আমলাতান্ত্রিক নিয়োগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি সরাসরি অভিযোগ তোলেন যে, প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে আইএএস অফিসার শিখর আগরওয়াল সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে অফিসারদের পোস্টিংয়ের তালিকা দিল্লি থেকেই নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে, যা রাজ্যের স্বাধীন কাঠামোর পরিপন্থী।

আমেরিকার নির্বাচন থেকে শুরু করে জাতীয় ও রাজ্য রাজনীতির বিভিন্ন ইস্যুকে এক সুতোয় বেঁধে পবন খেরার এই আক্রমণাত্মক মন্তব্য বর্তমানে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চার সৃষ্টি করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *