পুরনো জামাকাপড়ই এখন লক্ষ্মীলাভের চাবিকাঠি! বাতিল শাড়ি বেচেই গ্রামীণ অর্থনীতিতে কোটি টাকার নতুন ব্যবসা!

উৎসবের মরশুম কিংবা পুজোর আনন্দ মানেই আলমারি উপচে নতুন পোশাকের সমাহার। আর তার জেরে প্রতিটি পরিবারের অন্দরেই ধীরে ধীরে জমতে থাকে পুরনো, বাতিল শাড়ি কিংবা জামাকাপড়। একসময় এই সমস্ত পুরনো কাপড় বিনা মূল্যে বা ছদ্ম দানে অন্যকে দেওয়ার রেওয়াজ থাকলেও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ছবিটা এখন পুরোপুরি বদলে গেছে। বর্তমানে এই বাতিল বস্ত্রই গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক সুসংগঠিত, রমরমা ও লাভজনক ব্যবসার রূপ নিয়েছে। বাড়ি বাড়ি ঘুরে পুরনো কাপড় সংগ্রহ থেকে শুরু করে পাইকারি বাজার পর্যন্ত—এই চক্রকে কেন্দ্র করে আজ বহু মানুষের রুটি-রুজির সংস্থান হচ্ছে।

কেমনভাবে চলে এই পুরনো কাপড়ের কারবার?

গ্রামবাংলার আনাচে-কানাচে ঘুরে ঘুরে হকার বা ফেরিওয়ালারা সাধারণ গৃহস্থের বাড়ি থেকে এই বাতিল শাড়ি ও জামাকাপড় সংগ্রহ করেন। অনেক গৃহবধূই নগদ টাকার বিনিময়ে তা বিক্রি করে দেন, আবার কেউ কেউ পুরনো কাপড়ের বদলে সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় নানা বাসনপত্র কিংবা অন্যান্য সামগ্রী ঘরে তুলে নেন।

সংগ্রহ করা এই সমস্ত কাপড় ফেরিওয়ালারা স্থানীয় আড়ত বা মহাজনদের কাছে এনে বিক্রি করেন। মান, ধরন ও সুতোর গুণগত মান বিচার করে প্রতিটি কাপড় সাধারণত ১০ থেকে ১৫ টাকা কিংবা ২০ থেকে ২২ টাকা দরে হাতবদল হয়। স্থানীয় স্তরে ক্ষুদ্র লাভের মুখ দেখার পর সেই কাপড় বড় মহাজনদের হাত ধরে পৌঁছে যায় বৃহৎ শিল্প বাজারগুলিতে।

কোথায় ব্যবহার করা হয় এই পুরনো কাপড়?

নদিয়ার এক অভিজ্ঞ ব্যবসায়ী ব্রজ গোপাল বসাক, যিনি গত ১৫ বছর ধরে এই ব্যবসার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত, তিনি জানান যে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে হকারদের সংগৃহীত কাপড় জমা হওয়ার পর বড় বড় মহাজনরা গাড়ি নিয়ে এসে সেই মাল পাইকারি দরে তুলে নিয়ে যান। শুধু একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল নয়, বর্তমানে তাহেরপুর, বীরনগর, বাদকুল্লার মতো একাধিক এলাকায় এই ব্যবসার জাল ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

ব্যবসায়ীর কথায়, পুরনো সুতির কাপড় হয়তো সরাসরি কোনো সাজসজ্জা বা মণ্ডপ তৈরিতে লাগে না, তবে দেশের বিভিন্ন কলকারখানা এবং টেক্সটাইল মিলে ভারী যন্ত্রাংশ পরিষ্কার বা মোছার কাজে এর চাহিদা প্রচুর। ছোট ছোট পিকআপ ভ্যান থেকে শুরু করে বড় লরি বোঝাই করে এই সমস্ত পুরনো কাপড় সরাসরি বিভিন্ন শিল্প কারখানায় সরবরাহ করা হয়। বর্জ্য থেকে অর্থ উপার্জনের এই অভিনব গ্রামীণ মডেল বর্তমানে অর্থনীতির এক অন্যতম স্তম্ভ হয়ে উঠেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *