মিষ্টি মুখের আনন্দ মাটি! উৎসবের মরশুমে হু হু করে চড়ছে চিনির দাম, মেট্রো শহরগুলির মধ্যে কলকাতায় দর সর্বকালের রেকর্ড!

উৎসবের মরশুম এলেই মিষ্টিমুখ থেকে শুরু করে রকমারি পদ তৈরিতে চিনির চাহিদা থাকে তুঙ্গে। কিন্তু চলতি বছর এই আনন্দের মাঝেই সাধারণ মানুষের রান্নাঘরে বড়সড় চিন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে চিনির লাগামছাড়া দাম। কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ সত্ত্বেও গত এক মাসে দেশের খুচরো ও পাইকারি বাজারে কেজিপ্রতি চিনির দাম ৪ টাকারও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে দেশের গড় খুচরো বাজারেই চিনির দাম ছুঁয়েছে কেজিপ্রতি ৫৯.৫০ টাকা।

মেট্রো শহরগুলির মধ্যে কলকাতায় চিনির দাম সর্বোচ্চ

কেন্দ্রীয় ক্রেতা সুরক্ষা মন্ত্রকের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশের বড় বড় শহরগুলির মধ্যে এই মুহূর্তে চিনির সবচেয়ে বেশি ঝাঁঝ পোহাতে হচ্ছে কলকাতাবাসীকে। গত ৩ নভেম্বর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কলকাতায় চিনির খুচরো দাম পৌঁছে গেছে কেজিপ্রতি ৬৫ টাকায়!

  • এক বছর আগে এই একই সময়ে কলকাতায় চিনির দাম ছিল ৫০ টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে শুধুমাত্র তিলোত্তমাতেই চিনির দাম বেড়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ।

  • অন্যদিকে, দেশের বাকি মেট্রোগুলির মধ্যে দিল্লিতে কেজিপ্রতি চিনির দাম ৬৪ টাকা এবং মুম্বইয়ে তা রয়েছে ৬১ টাকা। দেশের গড় পাইকারি দামও বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে কেজিপ্রতি ৫৫.৪০ টাকা।

কেন হঠাৎ এই লাগামছাড়া ঊর্ধ্বগতি?

বার্ষিক হিসাব কষলেও দেখা যাচ্ছে, গত এক বছরে খুচরো বাজারে চিনির দাম কেজিতে ১২ থেকে ১৩ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির নেপথ্যে রয়েছে একাধিক কারণ:

  • উৎপাদন ঘাটতি: ২০২৫-২৬ মরশুমে দেশে আখের ফসলের ক্ষতি এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে প্রাথমিক অনুমানের তুলনায় চিনির উৎপাদন বেশ কিছুটা কম হয়েছে।

  • চাহিদার চাপ: উৎসবের মরশুমে মিষ্টি ও অন্যান্য খাদ্যপণ্যের চাহিদা হঠাৎ করে বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহের ওপর মারাত্মক চাপ তৈরি হয়েছে।

  • মজুতদারি ও আন্তর্জাতিক কারণ: আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির সরবরাহে টান পড়ার পাশাপাশি কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কৃত্রিম মজুতদারির অভিযোগও পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রের বড় পদক্ষেপ

বাজারের ক্রমবর্ধমান উত্তাপ কমাতে ইতিমধ্যেই একাধিক কঠোর পদক্ষেপ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। চিনির মজুতের ওপর নির্দিষ্ট ঊর্ধ্বসীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ বজায় রাখতে ১০ লক্ষ টন চিনি আমদানির অনুমতিও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, চিনিকলগুলির ওপর কড়া নজরদারি এবং দ্রুত আখ মাড়াই শুরু করার উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন।

ইতিমধ্যেই নতুন ২০২৬-২৭ চিনি উৎপাদন মরশুমের প্রথম মাসে দেশে ৮.৪৫ লক্ষ টন চিনি উৎপাদিত হয়েছে এবং ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের ১৫২টি চিনিকলে উৎপাদন শুরু হয়ে গিয়েছে। এই নতুন উৎপাদন বাজারে দ্রুত স্বস্তি ফেরাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে আপাতত খুচরো বাজারে চিনির দাম কমার কোনো স্পষ্ট লক্ষণ না থাকায়, উৎসবের মরশুমে সাধারণ মানুষের হেঁশেল থেকে শুরু করে মিষ্টির দোকানগুলিতে খরচ যে এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে গেল, তা বলাই বাহুল্য।

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *