চিন-ইরাকের সঙ্গে ভারতকেও বিশেষ ছাড়! মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের মেঘের মাঝেই ইরানের বিস্ফোরক কবুলনামা!

আমেরিকার সঙ্গে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত এবং চরম উত্তেজনার আবহেই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সমুদ্রপথে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল ইরান। কৌশলগতভাবে অতি সংবেদনশীল হরমুজ প্রণালীতে (Strait of Hormuz) নিজেদের আরোপিত কঠোর যাতায়াত বিধিনিষেধ থেকে ভারতকে সম্পূর্ণ ছাড় দেওয়ার কথা পুনরায় স্পষ্ট করল তেহরান। মঙ্গলবার ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও বিদেশ নীতি বিষয়ক কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ হায়াত-মোকাদ্দাম এ কথা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।
ভারতের পাশাপাশি চিন, ইরাক এবং কাতারকেও এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ অবাধে ব্যবহারের বিশেষ অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
কেন ভারতকে এই বিশেষ ছাড়? ইরানের বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি
এক অর্থনীতি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠকে আহমেদ হায়াত-মোকাদ্দাম জানান, বৈশ্বিক চাপ ও বিধিনিষেধের মাঝেই ইরান ব্যবসায়িক দিকটি মাথায় রেখে এই পদক্ষেপ নিয়েছে। তিনি সাফ বলেন,
“আমরা হরমুজ প্রণালীর ক্ষেত্রে ইতোমধ্যেই চারটি দেশকে ছাড় দিয়েছি। ভারত, চিন, ইরাক এবং কাতার এখন আমাদের দিক থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত এবং আমেরিকানদেরও এদের নিয়ে সমস্যা নেই। ভারতীয়দের জন্য আমরা এই ছাড় দিয়েছি মূলত যাতে তাঁদের কাছ থেকে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ আমদানি ব্যাহত না হয়। আর চিনের কাছ থেকে আমরা রাজনৈতিক সমর্থন এবং অর্থনৈতিক সহায়তা পাই।”
কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চরম অস্থিরতার মধ্যে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক সুসংহত রাখা এবং ওষুধের জোগান নিরবচ্ছিন্ন রাখতেই এই চাল চেলেছে তেহরান।
আমেরিকার সঙ্গে সংঘাত রুখতে ব্যাকডোর ডিপ্লোম্যাসি!
এদিকে, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়া-র রিপোর্ট অনুযায়ী, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধ শুরু হওয়ার জোর আশঙ্কার কথা মাথায় রেখেই এখন রণকৌশল সাজাচ্ছে ইরান। তবে সামরিক উদ্বেগের মাঝেই কূটনৈতিক সমাধানের খোঁজে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে তেহরানের রাজনৈতিক নেতৃত্ব।
সূত্রের খবর, কাতার একটি বিশেষ ও সীমিত মধ্যস্থতার প্রস্তাব নিয়ে সরাসরি তেহরানে প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছিল। সেই প্রস্তাব বিবেচনা করে যুদ্ধ এড়াতে ইরানি সামরিক বাহিনীকে চাপ দিচ্ছেন দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক নেতারা। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামরিক নেতৃত্বকে কাতারের প্রস্তাবিত পথে ইতিবাচক আলোচনার পরামর্শ দিয়েছেন।
রাজনৈতিক নেতৃত্ব সংঘাত এড়াতে কূটনৈতিক পথ খোলা রাখার চেষ্টা করলেও, ইরানের সামরিক কৌশলবিদরা অবশ্য পরিস্থিতি নিয়ে যথেষ্ট সন্দিহান। তবে সমস্ত যুদ্ধ-উত্তেজনার মাঝেই হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতীয় জাহাজের অবাধ যাতায়াত সুনিশ্চিত হওয়া ভারতের বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে এক বিশাল বড় কূটনৈতিক জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।