৩০০ কোটির মাটি চুরির তদন্তে বোমা ফাটাল পুলিশ! অভিষেকের PA-র তথ্যে তৃণমূল পার্টি অফিস থেকে উদ্ধার কোটিরও বেশি নগদ!

রাজ্য রাজনীতিতে ফের এক চাঞ্চল্যকর আর্থিক কেলেঙ্কারির হদিস মিলল। প্রায় ৩০০ কোটি টাকার বেআইনি মাটি চুরির মামলায় ধৃত তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক (PA) সুমিত রায়কে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জেরা করতেই সামনে এল বিস্ফোরক তথ্য। ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার তৎপরতায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার সরিষায় তৃণমূলের একটি দলীয় কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার হয়েছে ১ কোটি ২ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা নগদ!
কোথায় ও কীভাবে মিলল এই টাকার সন্ধান?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৩১ অক্টোবর কালীতলা আশুতি থানায় দায়ের হওয়া প্রায় ৩০০ কোটি টাকার জমি ও মাটি কেলেঙ্কারির অভিযোগে সুমিত রায়কে গ্রেপ্তার করে ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশ। আদালত তাঁকে ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয়।
তদন্ত চলাকালীন সুমিতকে লাগাতার জেরা করে পুলিশ জানতে পারে যে, এই দুর্নীতির বিপুল পরিমাণ টাকা কোথায় বা কীভাবে লুকানো রয়েছে। সেই তথ্যের সূত্র ধরেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার সরিষায় মগরাহাট পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক শামিম আহমেদের অনুগত বলে পরিচিত ওই দলীয় কার্যালয়ে হানা দেন তদন্তকারীরা। অফিস তল্লাশি করতেই থরে থরে সাজানো নোটের বান্ডিল দেখে চোখ কপালে ওঠে পুলিশ আধিকারিকদের।
মাটি চুরির কালো টাকা নাকি অন্য কিছু? কী বলছে পুলিশ?
বুধবার এক সাংবাদিক বৈঠকে ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার অতিরিক্ত সুপার (জোনাল) অভিষেক মজুমদার পুরো ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের জোরালো অনুমান, কালীতলা থানা এলাকায় গত ২০১৭ থেকে ২০২৫ সাল—এই দীর্ঘ ৯ বছর ধরে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার মাটি বেআইনিভাবে কেটে বিক্রি করা হয়েছিল। সেই অবৈধ কারবারের লভ্যাংশ বা নগদ টাকা গোপন করার জন্যই শাসক দলের ওই দলীয় কার্যালয়কে নিরাপদ আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করা হতো।
শুধু সুমিত রায় একা নন, এই বিশাল দুর্নীতি চক্রের নেপথ্যে ডায়মন্ডহারবারের একাধিক প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং কিছু প্রশাসনিক আধিকারিকের নামও উঠে আসছে। উদ্ধার হওয়া ১ কোটি টাকারও বেশি নগদ কোথা থেকে এল, কার নির্দেশে ওই পার্টি অফিসে রাখা হয়েছিল এবং এই লেনদেনের সঙ্গে অন্য কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখতে এখন ওই পার্টি অফিসের সমস্ত নথি ও সুমিতের বয়ান খুঁটিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
উৎসবের মরশুমে খাস রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে এমন বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় গোটা রাজ্যজুড়ে শুরু হয়ে গেছে চরম রাজনৈতিক তরজা।