“স্বপ্নে আদেশ পেয়েছিলাম!” আলিগড়ের প্রাচীন শিবলিঙ্গে মাংস রাখতেই হাতেনাতে ধরা শিক্ষক, তীব্র চাঞ্চল্য!

উত্তরপ্রদেশের আলিগড়ের ঐতিহাসিক খেরেশ্বর মহাদেব মন্দিরে এক নজিরবিহীন ও সংবেদনশীল ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়াল। মন্দিরের মূল শিবলিঙ্গে মাংসের টুকরো রাখার অভিযোগে স্থানীয় ভক্তদের হাতে হাতেনাতে ধরা পড়েন মহম্মদ আনোয়ারউদ্দিন নামে এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাসপেন্ডেড শিক্ষক। ঘটনার খবর জানাজানি হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন পুণ্যার্থীরা। পরে পুলিশ এসে অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

কী ঘটেছিল খেরেশ্বর মন্দিরে?

স্থানীয় বাসিন্দা ও মন্দির কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার অভিযুক্ত আনোয়ারউদ্দিন মন্দিরে প্রবেশ করে গোপনে শিবলিঙ্গের কাছে মাংসের টুকরো রেখে চম্পট দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে নিত্যপুজো ও পরিচ্ছন্নতার সময় সেবাদাস ও উপস্থিত ভক্তদের চোখে বিষয়টি ধরা পড়ে। ঘটনার পরেই চারদিকে শোরগোল পড়ে যায় এবং স্থানীয়রা তৎপর হয়ে অভিযুক্তকে ঘিরে ফেলেন। খবর পেয়ে আলিগড় থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেয় এবং আনোয়ারউদ্দিনকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়।

“স্বপ্নে নির্দেশ পেয়েছিলাম!”—পুলিশের জালে কী দাবি অভিযুক্তের?

পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত মহম্মদ আনোয়ারউদ্দিন (৪৭) আলিগড়ের ধৌরা মাফি এলাকার বাসিন্দা এবং তিনি পেশায় একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহায়ক শিক্ষক। বেশ কিছু অনিয়মের কারণে তিনি বর্তমানে সাসপেন্ডেড অবস্থায় রয়েছেন।

জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত দাবি করেছেন, তিনি নাকি গত ১০-১৫ বছর ধরে নিয়মিত এই মন্দিরে যাতায়াত করতেন! তাঁর আরও অদ্ভুত দাবি, সম্প্রতি স্বপ্নে তিনি এক বিশেষ নির্দেশ পান। তাঁর নিজস্ব কোনো মনোকামনা পূরণের জন্যই নাকি স্বপ্নে পাওয়া আদেশের ভিত্তিতে তিনি শিবলিঙ্গে মাংস রাখতে বাধ্য হন। তবে তিনি একাই এই কাজ করেছেন, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো অশুভ উদ্দেশ্য বা উসকানি রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

কঠোর আইনি পদক্ষেপ ও বাড়তি নিরাপত্তা

আলিগড়ের এই প্রাচীন ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মন্দিরে এমন ঘটনায় ভক্তদের মধ্যে ক্ষোভ উপচে পড়েছে। সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টাসহ একাধিক কঠোর ধারায় আনোয়ারউদ্দিনের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে:

  • মন্দিরের সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

  • অভিযুক্তের সামাজিক ও মানসিক পটভূমি নিয়ে তদন্ত চলছে।

  • কোনো রকম গুজব বা অশান্তি যাতে না ছড়ায়, সে জন্য এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয় নেতৃত্ব ও পুলিশ যৌথভাবে সাধারণ মানুষকে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। তদন্ত শেষে আইনানুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তির আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *