পারমাণবিক হামলার মুখে ইরান! মার্কিন ড্রোন হানার পর নাগালের বাইরে তেজস্ক্রিয়তার ভয়, তড়িঘড়ি জারি জরুরি নির্দেশিকা!

মধ্যপ্রাচ্যে ফের ঘনীভূত হচ্ছে যুদ্ধের কালো মেঘ। ইরানের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপে আমেরিকার বিমান হানার পর চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এই ‘সীমিত হামলা’ বা ‘লিমিটেড অ্যাটাক’-এর কথা স্বীকার করার পর থেকেই পরমাণু যুদ্ধের জল্পনা উসকে উঠেছে। পরিস্থিতি এতটাই সঙ্গিন যে, সম্ভাব্য পারমাণবিক হামলা ও তার তেজস্ক্রিয়তা থেকে বাঁচতে দেশবাসীকে তড়িঘড়ি বিশেষ জরুরি নির্দেশিকা জারি করেছে ইরান প্রশাসন।
কেশম দ্বীপে আমেরিকার হামলা ও ট্রাম্পের স্বীকারোক্তি
টেলিফোনে ‘ফক্স নিউজ’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, হরমুজ প্রণালীর কাছে অবস্থিত কেশম দ্বীপে ইরানের নতুন তৈরি একটি অ্যান্টি-এয়ারক্রাফট বা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে নিশানা করে সফল আঘাত হেনেছে মার্কিন বাহিনী। ট্রাম্পের দাবি, মার্কিন সামরিক সম্পদ রক্ষার্থেই এই হামলা চালানো হয়েছে।
একই সঙ্গে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির কেন্দ্র বলে পরিচিত ‘মাউন্ট কোলাং’ পর্বতমালাতেও আঘাত হানার ইঙ্গিত বহাল রেখেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ ও পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের জন্য ট্রাম্পের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন।
“যুদ্ধে কারও লাভ হবে না”: বার্তা ইরানি প্রেসিডেন্টের
মার্কিন পদক্ষেপের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সাফ জানিয়েছেন, দুটি দেশের মধ্যে আরও একটি যুদ্ধ শুরু হলে তা কোনো পক্ষের জন্যই শুভ হবে না। এক সরকারি সভায় তিনি স্পষ্ট বলেন, “এই যুদ্ধ থেকে কোনো দেশই লাভবান হতে পারবে না।” কূটনৈতিক ও আলোচনার মাধ্যমেই সংকট সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
পারমাণবিক বিস্ফোরণ ও তেজস্ক্রিয়তা থেকে বাঁচতে কী নির্দেশ ইরানের?
সম্ভাব্য পরমাণু বা তেজস্ক্রিয় আক্রমণের আশঙ্কায় ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থায় ইসফাহান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তরফে নাগরিকদের জন্য বিশেষ কিছু জীবনদায়ী প্রোটোকল প্রকাশ করা হয়েছে:
-
আশ্রয়স্থল নির্বাচন: পারমাণবিক দুর্ঘটনার সাইরেন বাজলে দ্রুত কোনো মজবুত ভবনের ভেতরে, বিশেষ করে জানালাহীন বেসমেন্ট বা মাঝের কোনো ঘরে আশ্রয় নিতে হবে। বাইরের বিষাক্ত বা তেজস্ক্রিয় বাতাস যাতে ভেতরে না আসে, তার জন্য সমস্ত দরজা, জানালা ও এয়ার ভেন্ট পুরোপুরি বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
-
বিস্ফোরণের মুহূর্ত: বিস্ফোরণের আলোর দিকে সরাসরি তাকানো যাবে না। প্রাথমিক ধাক্কা সামলাতে মাটির কাছাকাছি নিচু হয়ে কোনো শক্ত প্রতিবন্ধকের আড়ালে থাকতে হবে।
-
পোশাক ও ত্বকের সুরক্ষার কৌশল: তেজস্ক্রিয় কণার সংস্পর্শে এসেছেন মনে হলে মুখ না ছুঁয়ে পরনের বাইরের জামাকাপড় খুলে দ্রুত একটি মুখবন্ধ প্লাস্টিকের ব্যাগে বন্দি করতে হবে। হালকা গরম জল ও সাবান দিয়ে ত্বক ও চুল ভালোভাবে ধুলে তেজস্ক্রিয়তার প্রভাব অনেকটাই কমানো সম্ভব।
-
গাড়ি ও যাতায়াত: বাইরে বের হওয়া জরুরি হলে প্রশাসনিক অনুমোদিত পথ ব্যবহার করতে হবে। গাড়িতে সফরের সময় জানালার কাঁচ পুরোপুরি বন্ধ রেখে এসির ‘ইন্টারনাল সার্কুলেশন’ চালু রাখতে হবে। মুখে কাপড় বেঁধে শ্বাস নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
-
ওষুধ নিয়ে কড়া বার্তা: চিকিৎসকের বা স্বাস্থ্য দপ্তরের স্পষ্ট পরামর্শ ছাড়া আগাম কোনো পটাশিয়াম আইওডিন (Iodine) বা ‘প্রুশিয়ান ব্লু’ (Prussian Blue) ট্যাবলেট না খাওয়ার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের জল কতদূর গড়ায় এবং ট্রাম্পের এই বার্তা নতুন কোনো বিশ্বযুদ্ধের সূচনা করে কি না, সেদিকেই এখন উৎকণ্ঠায় তাকিয়ে বিশ্ববাসী।