হাতে স্ত্রীর কাটা মাথা, গঙ্গারামপুরের রাস্তায় উন্মত্তের মতো হেঁটে সোজা মন্দিরে প্রার্থনা! এ কোন খাস বাংলায়?

পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুর শহর থেকে এক রোমহর্ষক ও গা শিউরে ওঠার মতো নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর সামনে এসেছে। পারিবারিক বা দাম্পত্য কলহের জেরে প্রকাশ্য দিবালোকে নিজের স্ত্রীকে অত্যন্ত নির্মমভাবে খুন করার অভিযোগ উঠেছে এক স্বামীর বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, স্ত্রীকে খুন করার পর তাঁর কাটা মাথাটি হাতে নিয়ে দীর্ঘক্ষণ গঙ্গারামপুরের বিভিন্ন রাস্তায় ঘুরে বেড়ায় ওই ব্যক্তি। এরপর স্থানীয় একটি মন্দিরে গিয়ে মৃত স্ত্রীর কাটা মাথাটি সামনে রেখে প্রার্থনা করতে বসে সে! এমন অবাস্তব ও লোমহর্ষক দৃশ্য দেখে মুহূর্তের মধ্যে গোটা এলাকায় চরম আতঙ্ক ও থমথমে পরিবেশ তৈরি হয়।

ঠিক কী ঘটেছিল গঙ্গারামপুরে?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুর থানার অন্তর্গত ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নারায়ণপুর এলাকায়। মৃত মহিলার নাম সীমা সরকার ঘোষ এবং অভিযুক্ত স্বামীর নাম রিন্টু ঘোষ। বুধবার সকালে হঠাৎই পারিবারিক কোনো বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র বচসা শুরু হয়। অভিযোগ, সেই ঝামেলার মাঝেই চড়াও হয়ে রিন্টু ঘোষ ধারালো অস্ত্র দিয়ে স্ত্রী সীমার ওপর হামলা চালায় এবং পরমুহূর্তেই তাঁর মাথা শরীর থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে দেয়।

কাটা মাথা হাতে নিয়ে প্রকাশ্য রাস্তায় উল্লাস!
খুন করার পর অভিযুক্তের চরম বিকৃত মানসিকতা প্রকাশ পায়। নৃশংস এই অপরাধ সংঘটিত করার পর রিন্টু মৃত স্ত্রীর কাটা মাথাটি নিজের হাতে তুলে নেয় এবং নির্বিকারভাবে গঙ্গারামপুরের জনবহুল রাস্তায় হেঁটে বেড়াতে শুরু করে। আচমকা এই ভয়ঙ্কর দৃশ্য দেখে পথচলতি সাধারণ মানুষ ও প্রতিবেশীরা ভয়ে সিঁটিয়ে যান। মুহূর্তের মধ্যে খবরটি দাবানলের মতো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

এরপর প্রকাশ্য রাস্তায় বেশ কিছুক্ষণ ঘোরার পর অভিযুক্ত সোজা চলে যায় এলাকার একটি স্থানীয় মন্দিরে। সেখানে দেবমূর্তির সামনে স্ত্রীর কাটা মুণ্ডুটি রেখে সে নিজে দুই হাত উপরে তুলে অদ্ভুত ভঙ্গিতে প্রার্থনা করতে শুরু করে।

পুলিশের ঝটিকা পদক্ষেপ ও গ্রেফতার
ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে গঙ্গারামপুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। পুলিশ অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং মুহূর্তের মধ্যে অভিযুক্ত স্বামী রিন্টু ঘোষকে পাকড়াও করে গ্রেফতার করে। ঘটনাস্থল থেকেই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারদার অস্ত্রটি উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পাশাপাশি, মৃতুসীমা সরকার ঘোষের খণ্ডিত মরদেহ ও কাটা মাথাটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, দীর্ঘদিনের পারিবারিক অশান্তি বা দাম্পত্য কলহই এই চরম হিংসাত্মক ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে। তবে অভিযুক্তের মানসিক ভারসাম্য ঠিক ছিল কি না, কিংবা এই নৃশংসতার পেছনে অন্য কোনো গভীর রহস্য লুকিয়ে আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে জোরদার তদন্ত শুরু করেছে গঙ্গারামপুর থানার পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *