জন্মদিনের পার্টির নাম করে খাস রাজ্যে দুই নাবালিকা বোনকে গণধর্ষণ! ফাঁদ এড়িয়ে কোন কৌশলে বাঁচল তৃতীয় বান্ধবী?

জন্মদিনের পার্টিতে নিয়ে যাওয়া ও ঘুরতে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দুই নাবালিকা বোনকে গণধর্ষণের এক নির্মম ও শিউরে ওঠা ঘটনা সামনে এলো ঝাড়খণ্ডের খুঁটি জেলায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তিন নাবালিকা মেয়েকে ফাঁদে ফেলে মারংহাদা এলাকার একটি নির্জন গ্রামে নিয়ে গিয়ে দুই বোনের ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায় চার যুবক। তবে এই নারকীয় ঘটনার মাঝেই চরম বুদ্ধিমত্তা ও সাহসিকতা দেখিয়ে কোনো মতে অপরাধীদের চঙ্গল থেকে পালিয়ে প্রাণ বাঁচায় তৃতীয় নাবালিকা সহেলী।
এই মর্মান্তিক ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই এলাকা জুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ ইতিমধ্যেই মূল অভিযুক্তসহ তিনজনকে হেফাজতে নিয়েছে এবং ফারার থাকা চতুর্থ অভিযুক্তের খোঁজে জোর তল্লাশি চালাচ্ছে।
জন্মদিনের পার্টির টোপ ও নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে পাশবিকতা
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে যে, ঘটনাটি ঘটেছে খুঁটি জেলার মুরহু থানা এলাকায়। নির্যাতিত দুই সগর্বা বোনের সঙ্গে কিছুদিন আগেই এক যুবকের পরিচয় হয়েছিল। অভিযোগ, ঘটনার দিন সেই যুবকই দুই বোন এবং তাদের এক নাবালিকা বান্ধবীকে জন্মদিনের পার্টিতে নিয়ে যাওয়া ও কাছাকাছি ঘুরতে যাওয়ার প্রস্তাব দেয়। সরল বিশ্বাসে সেই প্রস্তাবে রাজি হয় তিন নাবালিকা।
এরপরই ওই যুবক তার আরও তিন বন্ধুকে সেখানে ডেকে নেয়। চার অভিযুক্ত মিলে তিন নাবালিকাকে একটি বাইক ও স্কুটিতে বসিয়ে মারংহাদা এলাকার একটি গ্রামে নিয়ে যায়। সেখানে প্রথমে তারা সবাই মিলে একসাথে খাওয়া-দাওয়া করে। এরপর ঘোরানোর বাহানা করে মেয়েটিকে গ্রামের বাইরের একটি সম্পূর্ণ নির্জন ও জনমানবহীন স্থানে নিয়ে যায় চার যুবক।
দুই বোনকে গণধর্ষণ, কৌশলে পালাল তৃতীয় জন
নির্জন এলাকায় পৌঁছানোর পরই চার যুবকের নৃশংস রূপ প্রকাশ পায়। সেখানে দুই সগর্বা নাবালিকা বোনকে ঘিরে ধরে চারজনে মিলে গণধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। ঘটনার আকস্মিকতায় আতঙ্কিত হয়ে পড়লেও, সাথে থাকা তৃতীয় নাবালিকা মেয়েটি সাহসিকতার পরিচয় দেয়। অভিযুক্তদের হাত থেকে নিজেকে কোনোভাবে ছাড়িয়ে নিয়ে অন্ধকারের সুযোগে সেখান থেকে চম্পট দেয় সে।
ঘটনার পর রক্তাক্ত ও চরম আতঙ্কিত অবস্থায় দুই বোন কোনো মতে নিজের বাড়ি পৌঁছায় এবং পরিবারের লোকজনকে সমস্ত আপবীতি জানায়। মেয়ের মুখে এই নির্মম ঘটনা শোনার পরপরই পরিবার বিলম্ব না করে পুলিশের দ্বারস্থ হয়।
পকসো আইনে মামলা রুজু, ধৃত ৩ অভিযুক্ত
অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথেই চরম তৎপরতা দেখায় পুলিশ প্রশাসন। খুঁটি মহিলা থানায় পকসো (POCSO) আইনসহ একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ দ্রুত তিন অভিযুক্তের পরিচয় শনাক্ত করে তাদের হেফাজতে নেয়। ধৃতদের নাম—গোপাল মুন্ডা ওরফে রাহুল, মনীশ লোহরা এবং মনসা।
তবে ঘটনার জড়িত চতুর্থ অভিযুক্ত ঘটনার পর থেকেই পলাতক। তার খোঁজে পুলিশের একাধিক দল বিভিন্ন সম্ভাব্য ডেরায় লাগাতার রেইড ও তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে।
হাসপাতালে মেডিক্যাল পরীক্ষা ও তদন্ত প্রক্রিয়া
পুলিশের তরফে দুই নির্যাতিত নাবালিকা বোনকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য এবং প্রয়োজনীয় মেডিক্যাল পরীক্ষার (Medical Examination) জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, হেফাজতে থাকা তিন অভিযুক্তকে মুখোমুখি বসিয়ে টানা জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা। এই গণধর্ষণের পেছনে কার কী ভূমিকা ছিল এবং পুরো ষড়যন্ত্র কীভাবে ছকা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ঝাড়খণ্ড পুলিশ স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।