৮০টি দেশে উপস্থিতি কিন্তু আন্তর্জাতিক সংগঠন নয়! আরএসএস কি বিশ্বজুড়ে ছড়াচ্ছে প্রভাব? স্পষ্ট করলেন হোসবালে

মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে জাতীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) অখিল ভারতীয় কার্যকারী মণ্ডলীর তিন দিনব্যাপী মেগা বৈঠক বুধবার সাফল্যমণ্ডিতভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ইন্দোরের ডেইলি কলেজের সন্ত শ্রী রবিদাস সভাগৃহে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠক শেষে আরএসএস-এর সরকার্যবাহ (সাধারণ সম্পাদক) দত্তাত্রেয় হোসবালে এক প্রেস কনফারেন্সে উপস্থিত হয়ে সংঘের সাম্প্রতিক সাফল্য এবং স্বয়ংসেবকদের সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত খতিয়ান তুলে ধরেন।

প্রেস কনফারেন্স চলাকালীন আরএসএস আন্তর্জাতিক সংগঠনে রূপ নিতে যাচ্ছে কি না—এমন এক প্রশ্নের জবাবে হোসবালে স্পষ্ট জানান, “বিশ্বের প্রায় ৮০টি দেশে সংঘের প্রতিনিধি ও কর্মীরা প্রেরণার সাথে সমাজ কল্যাণে কাজ করছেন, কিন্তু আমাদের কোনো আন্তর্জাতিক সংগঠন গড়ে তোলার আলাদা উদ্দেশ্য নেই।” তিনি জানান, সংঘের শতবর্ষ উদ্‌যাপন উপলক্ষে দেশ ও বিদেশে বহু কর্মসূচির আয়োজন করা হয়, যেখানে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ সমর্থন দিয়েছেন। চলতি বছরের আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে সরসংঘচালক মোহন ভাগবত তিনটি দেশ সফর করেন এবং নিউ ইয়র্কেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ৫ কোটি টাকারও বেশি ত্রাণ সহায়তা
সংগঠনের সামাজিক দায়িত্ব পালনের চিত্র তুলে ধরে হোসবালে ‘পঞ্চ পরিবর্তন’ প্রচার অভিযান এবং অসম, ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগকবলিত রাজ্যে পরিচালিত বিশাল ত্রাণ ও উদ্ধারকাজের খতিয়ান পেশ করেন।

তিনি জানান, অসমে সাম্প্রতিক বন্যায় ৮০৫টি গ্রামের প্রায় ৬৭ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন। সেখানে ১,৬০০ জন স্বয়ংসেবক সরাসরি নেমে মানুষের সেবা করেছেন এবং আমজনতার সহযোগিতায় প্রায় ৫ কোটি টাকারও বেশি ত্রাণ তহবিল সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে। ঠিক একইভাবে ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশে ‘অর্ণব’ সামুদ্রিক ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছেন সংঘের কর্মীরা। এছাড়া লখনউতে ৪০ হাজার এবং চিত্রকূটে ২ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সাহায্য পৌঁছানো হয়েছে।

মাত্র এক বছরেই ১২ হাজার বাড়ল আরএসএস-এর শাখা!
সংগঠনের অভাবনীয় বৃদ্ধির তথ্য দিয়ে সরকার্যবাহ জানান, বর্তমানে দেশজুড়ে ৬৩,২০৮টি নির্দিষ্ট স্থানে আরএসএস-এর কার্যক্রম বিস্তৃত রয়েছে, যার মধ্যে নতুন করে ৮,১৫৬টি স্থান যুক্ত হয়েছে। চলতি বছরে দেশজুড়ে শাখা লাগানোর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৯,৪২৩-এ, যা বিগত বছরের তুলনায় প্রায় ১২ হাজার বেশি।

বর্তমানে প্রায় ১০,২০০টি নতুন স্থানে সংঘের সরাসরি সংযোগ তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ১ লাখ স্থানে নিত্যদিনের শাখা ও সাপ্তাহিক মিলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পাশাপাশি দেশে প্রায় ৬৫ হাজার ‘হিন্দু সম্মেলন’ আয়োজিত হয়েছে, যার মধ্যে কেবল শহরাঞ্চলের বস্তি এলাকাতেই ১০ হাজারেরও বেশি সমাবেশ হয়েছে। এই সমস্ত কর্মসূচিতে প্রায় ৫ কোটি সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেছেন।

‘রিজিম চেঞ্জ’ ষড়যন্ত্র ও তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে বিস্ফোরক বক্তব্য
তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ক্রমবর্ধমান মাদকের আসক্তি এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত ‘রিজিম চেঞ্জ’ (সরকার পরিবর্তনের ষড়যন্ত্র) সংক্রান্ত বিষয়ে খোলামেলা প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন হোসবালে। তিনি বলেন, “সমাজে অশান্তি সৃষ্টি বা হিংসাত্মক পরিবেশ তৈরি করা কখনই দেশের স্বার্থে হতে পারে না। বিশ্বজুড়ে সরকার বদলের যে সব চক্রান্তের কথা শোনা যায়, তা অত্যন্ত চিন্তার। আমরা দেশকে ভাঙার বা বিভাজন তৈরি করার যে কোনো চেষ্টার তীব্র বিরোধিতা করি।”

নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে তিনি মনে করিয়ে দেন যে, ঐতিহাসিক ‘জেপি আন্দোলন’-এর সময় তিনিও আজকের ‘Gen Z’ (তরুণ প্রজন্ম)-দের মতোই তরুণ ছিলেন। তাই নতুন প্রজন্মের মনের ভাষা বোঝা এবং তাদের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা চালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত জরুরি। সেই সঙ্গে তরুণদের উদ্দেশ্যে বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, কোনো अराजক বা অশুভ শক্তিকে যেন দেশের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে না দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের জালে তরুণরা যাতে জড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নেওয়া কড়া পদক্ষেপের পাশাপাশি সংঘও দেশজুড়ে সচেতনতা অভিযান চালাচ্ছে বলে তিনি জানান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *