স্ত্রীর কাটা মাথা হাতে নিয়ে রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন স্বামী! গঙ্গারামপুরের হাড়হিম করা কাণ্ডে কাঁপছে বাংলা

নভেম্বরের শুরুতেই দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুরে এক হাড়হিম করা রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড! স্ত্রীকে নির্মমভাবে খুনের পর তাঁর কাটা মাথা এক হাতে নিয়ে কখনও কালীমন্দিরে বসে থাকা, আবার কখনও বুক চিতিয়ে ফাঁকা রাস্তায় ঘুরে বেড়ানোর অভিযোগ উঠল এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। বুধবার সকালে গঙ্গারামপুর পুরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নারায়ণপুর ঘোষপাড়ার এই নৃশংস দৃশ্য দেখে চরম আতঙ্ক ও শোরগোল ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। ঘটনার খবর পেয়েই দ্রুত গঙ্গারামপুর থানার পুলিশ পৌঁছে মূল অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেফতার করেছে।
১৫ বছরের দাম্পত্যের এমন পরিণতি!
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত মহিলার নাম সীমা ঘোষ সরকার (৩৫)। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁর স্বামী রিন্টু ঘোষকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রায় ১৫ বছর আগে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন রিন্টু ও সীমা। তাঁদের দুটি নাবালক সন্তানও রয়েছে। রিন্টু পেশায় রাজ্য সরকারের সরকারি বাসের চুক্তিভিত্তিক কন্ডাক্টর ছিলেন।
চাকরি খোয়ানোর পর থেকেই কি পরিবারে অশান্তি?
স্থানীয় অধিবাসীদের দাবি, প্রায় বছর তিনেক আগে আচমকাই কন্ডাক্টরের চাকরিটি হারান রিন্টু। এরপর সংসারের রুটিরুজির টানে রাস্তার পাশে কখনও ফুল, আবার কখনও মুড়ি-গুড় বিক্রি শুরু করেন তিনি। তবে স্থায়ী কাজ হারানোর পর থেকেই রিন্টুর পারিবারিক জীবনে চরম অশান্তির কালো মেঘ নেমে আসে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রতিদিনের ঝগড়া-বিবাদ যেন নিত্যদিনের পাওনা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সেই পুরনো বিবাদের জেরেই কি এমন মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড, নাকি পেছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে—তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
মন্দিরে বসে স্ত্রীর কাটা মাথা, হাতে রক্তমাখা দা
বুধবার সকালে এলাকাবাসীরা নারায়ণপুরের এক মন্দিরের ভেতর রিন্টুকে স্ত্রীর কাটা মাথা হাতে নিয়ে নির্লিপ্তভাবে বসে থাকতে দেখেন। এরপর রক্তের ছাপ গায়ে নিয়ে কাটা মাথা হাতেই রাস্তায় কিছুক্ষণ ঘুরে বেড়াতে দেখা যায় তাঁকে। এই দৃশ্য দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কে দৌড়াদৌড়ি শুরু করে দেন এবং দ্রুত থানায় খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে গঙ্গারামপুর থানার পুলিশ টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে ঘিরে ফেলে এবং গ্রেফতার করে। নিহতের ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধারের পাশাপাশি অকুস্থল থেকে একটি রক্তমাখা ধারাল দা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ওই দা দিয়ে কুপিয়েই মহিলার ঘাড় বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডে কি তন্ত্রসাধনার যোগ?
ঘটনার পরপরই স্থানীয়দের একাংশের মুখে উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর তন্ত্রসাধনার তত্ত্ব। প্রতিবেশীদের দাবি, চাকরি হারানোর পর থেকেই রিন্টু মানসিক অস্থিরতায় ভুগছিলেন এবং ক্রমশ তন্ত্রসাধনার দিকে ঝুঁকছিলেন। দিনের বেশিরভাগ সময়টাই তিনি বাড়ির কালীমন্দির ও পাশের দুর্গামন্দিরে কাটাতেন।
যদিও পুলিশ জানাচ্ছে, এই তান্ত্রিক তত্ত্বের সত্যতা এখনও পুরোপুরি প্রমাণিত নয়। দীর্ঘদিনের দাম্পত্য কলহ নাকি এর নেপথ্যে কোনো তান্ত্রিক উন্মাদের যোগ রয়েছে—তা সব দিক খোলা রেখে তদন্ত শুরু করেছে গঙ্গারামপুর থানার পুলিশ। ময়নাতদন্তের জন্য দেহ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।