কাশি কমছিল না কিছুতেই, ক্যানসার ভেবেই অস্ত্রোপচার! প্রবীণ ব্যক্তির ফুসফুসে মিলল ৩ বছর আগের গোপন বস্তু!

টানা কাশি আর ফুসফুসের তীব্র সংক্রমণে ভুগছিলেন ৭২ বছরের এক প্রবীণ ব্যক্তি। অ্যান্টিবায়োটিক খেয়েও মেলেনি কোনো স্বস্তি, বাধ্য হয়েই ছোটেন হাসপাতালে। পরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা প্রাথমিক অনুমান করেছিলেন— হয়তো ফুসফুসে দানা বেঁধেছে মারণ টিউমার! তবে সেই টিউমার অস্ত্রোপচার করে বের করতে গিয়েই চোখ কপালে উঠল অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের। ফুসফুসের গভীরে লাল মাংসপিণ্ডের আড়ালে তিন বছর ধরে লুকিয়ে রয়েছে এক আস্ত বাঁধানো বা ভাঙা দাঁত! আর সেই রহস্যময় দাঁতই ডেকে আনছিল বারবার মারণ সংক্রমণ।

মেডিকেল সায়েন্সের ইতিহাসে বিরল এই অবাক করা ঘটনার বিবরণী প্রকাশিত হয়েছে ‘দ্য ইজিপশিয়ান জার্নাল অফ ব্রঙ্কোলজি’-র রিপোর্টে।

টানা কাশি ও ফুসফুসে বারবার সংক্রমণ
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই প্রবীণ ব্যক্তি বেশ কয়েক মাস ধরে কফযুক্ত তীব্র কাশি ও ফুসফুসের জটিল সংক্রমণে ভুগছিলেন। ক্যানসারের পারিবারিক কোনো ইতিহাস না থাকলেও এবং ওজন কমে যাওয়া, জ্বর বা কফের সঙ্গে রক্ত পড়ার মতো উপসর্গ না থাকলেও তাঁর ফুসফুসের কার্যক্ষমতা আশঙ্কাজনকভাবে কমছিল।

টিউমার ভেবে অস্ত্রোপচার, দেখতে পেলেন সাদা বস্তু!
চিকিৎসকেরা পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য প্রবীণ রোগীর সিটি স্ক্যান (CT Scan) করান। এতে ডান ফুসফুসের নিচের দিকের শ্বাসনালীতে বাধা ও ফোলা ভাব পরিলক্ষিত হয়। পরবর্তীতে ব্রঙ্কোস্কোপি করে দেখা যায়, রক্তনালীতে ভরা লাল রঙের একটি মাংসপিণ্ড শ্বাসনালীকে পুরোপুরি অবরুদ্ধ করে রেখেছে। চিকিৎসকদের প্রবল সন্দেহ হয় যে এটি হয়তো ক্ষতিকর কার্সিনয়েড টিউমার।

এরপর আধুনিক স্নেয়ার ও ক্রায়োপ্রোব যন্ত্র দিয়ে সেই মাংসপিণ্ড কাটার সময় চিকিৎসকেরা তার নিচে এক শক্ত সাদা বস্তুর সন্ধান পান। ক্রায়োপ্রোব দিয়ে স্পষ্ট বুঝতে না পেরে চিকিৎসকেরা ফোরসেপস ও বিশেষ রিট্রিভাল বাস্কেট ব্যবহার করে বস্তুটি আলতো করে টেনে বের করেন। বের করে আনতেই উপস্থিত চিকিৎসকদের দল স্তম্ভিত হয়ে যান— তা কোনো টিউমার নয়, রক্তে মাখা একটি আস্ত দাঁত!

তিন বছর আগে অজান্তেই ঢুকে পড়ে ফুসফুসে
পরবর্তীকালে প্রবীণ ব্যক্তি স্মৃতি থেকে উদ্ধার করে জানান, প্রায় তিন বছর আগে একবার সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে গিয়েছিলেন তিনি। গবেষকদের ধারণা, সেই সময়ই তাঁর মুখ থেকে একটি দাঁত ভেঙে শ্বাসনালীতে সোজা ফুসফুসে প্রবেশ করেছিল। প্রথম সিটি স্ক্যানে ছায়ার মতো অংশ দেখা গেলেও চিকিৎসকেরা সাধারণ ক্যালসিফিকেশন ভেবে প্রথমে তা গুরুত্ব দেননি।

তবে স্বস্তির খবর হলো, উদ্ধার হওয়া টিস্যু বা কোষে কোনো ক্যানসারের অস্তিত্ব মেলেনি। দাঁতটি বের করে আনার পর সফল চিকিৎসায় ওই বৃদ্ধ সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠেছেন এবং তাঁর শ্বাসনালীও স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ফিরে পেয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *