কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে বিরাট বদল! সিলেবাসে এবার চাণক্য নীতি থেকে বৈদিক গণিত, শিক্ষাজগতে শোরগোল!

বাংলার উচ্চ শিক্ষায় এবার আসতে চলেছে এক ঐতিহাসিক ও বড় পরিবর্তন। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলির পাঠক্রমে যুক্ত হতে চলেছে প্রাচীন গণিত শাস্ত্র এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সিলেবাসে স্থান পাচ্ছে ‘চাণক্য নীতি’। শুধু তাই নয়, বৈদিক যুগের গণিতও এবার পঠনপাঠন করা হবে বাংলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে। জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP) মেনে এই রূপরেখা তৈরি করতে ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের তরফে একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়েছে।

হাই-প্রোফাইল টাস্ক ফোর্সের নেতৃত্ব
কেন্দ্রীয় সরকারের ‘ইন্ডিয়ান নলেজ সিস্টেম’ (IKS) কাঠামোর আদলে এই গোটা প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করা হচ্ছে, যা বর্তমানে আইআইটি (IIT) স্তরেও পড়ানো হয়। বাংলার কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে এই পাঠ্যক্রম চালুর দায়িত্বে থাকা টাস্ক ফোর্সের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইউজিসি (UGC)-র প্রাক্তন চেয়ারপার্সন অধ্যাপক এম জগদীশ কুমার। এছাড়াও এই টাস্ক ফোর্সে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কল্লোল পাল।

সিলেবাসে কী কী পরিবর্তন আসছে?
উচ্চশিক্ষার পাঠক্রমে যুক্ত হচ্ছে প্রাচীন গণিত শাস্ত্র।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে চাণক্য নীতি।

বাংলার কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে পড়ানো হবে বৈদিক যুগের গণিত।

শিক্ষামহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
এই বিষয়ে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য তথা টাস্ক ফোর্সের সদস্য কল্লোল পাল জানিয়েছেন, “বাংলার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একটি নির্দিষ্ট মডেল ও গাইডলাইন তৈরি করে জাতীয় শিক্ষানীতি বা NEP ২০২০ পুরোপুরি অনুসরণ করা হচ্ছে। বৈদিক নীতি ও শাস্ত্রীয় নীতিগুলির মধ্যে যেগুলি বর্তমান যুগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, সেগুলিকেই সিলেবাসে নিয়ে আসা হবে।”

অন্যদিকে, এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অভিজিৎ চক্রবর্তী। তাঁর মতে, “সিলেবাসের একটি অংশ হিসেবে আধুনিক বিজ্ঞান ও ইউরোপীয় বিজ্ঞানের পাশাপাশি প্রাচীন বিজ্ঞানকেও যদি স্থান দেওয়া হয়, তবে আমাদের দেশের ঐতিহ্যই সঠিকভাবে প্রতিস্থাপিত হবে।”

তবে এই পরিবর্তনের সম্পূর্ণ পক্ষে নন সকলে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নন্দিনী মুখোপাধ্যায় এই বিষয়ে কিছুটা ভিন্ন মত পোষণ করে বলেন, “এই পদ্ধতিতে বড় কোনও অসুবিধা নেই। তবে আমরা একবিংশ শতাব্দীতে এসে দাঁড়িয়েছি। প্রাচীন গণিতশাস্ত্রে যা ছিল, তা আজ অনেকটাই পেছনে ফেলে আমরা এগিয়ে এসেছি। এই বিষয়গুলিকে ইতিহাসের অংশ হিসেবে রাখা ভালো, তবে বর্তমান শিক্ষায় আধুনিক গণিত, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতির ওপরই বেশি জোর দেওয়া উচিত ছিল।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *