বিরাট সুখবর! বদলে গেল ইতিহাস, জোসেফ বিজয়ের সরকারের মাস্টারস্ট্রোক সিদ্ধান্তে তোলপাড় ইন্ডাস্ট্রি!

সিনেমা হলের বাইরে দীর্ঘ লাইন, টিকিটের জন্য হাহাকার আর প্রথম দিনের প্রথম শো (FDFS) ঘিরে দর্শকদের বাঁধভাঙা উন্মাদনা—দক্ষিণী চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে এই দৃশ্য অত্যন্ত পরিচিত। তবে এবার সেই উন্মাদনাকে নতুন মাত্রা দিতে এবং দর্শকদের টিকিটের দুশ্চিন্তা পুরোপুরি মেটাতে এক ঐতিহাসিক নির্দেশ জারি করল তামিলনাড়ু সরকার।
জোসেফ বিজয় সরকারের যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত
মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়ের নেতৃত্বাধীন সরকার থিয়েটার ও সিনেমা হলের জন্য এক নতুন নিয়ম অনুমোদন করেছেন। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, এখন থেকে তামিলনাড়ুতে নতুন কোনও বড় সিনেমা মুক্তি পেলে প্রথম এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন প্রেক্ষাগৃহে ছ’টি করে শো চালানো যাবে।
সাধারণ কর্মদিবস হোক কিংবা শনি-রবিবার, এমনকি স্থানীয় উৎসব ও সরকারি ছুটির দিনগুলোতেও এই একই নিয়ম কার্যকর থাকবে। দর্শকদের সুবিধার্থে সকাল ৬টা থেকে শুরু করে পরদিন ভোর ২টো ৩০ মিনিট পর্যন্ত থিয়েটার খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
কেন নেওয়া হলো এই বড় পদক্ষেপ?
দীর্ঘদিন ধরেই ‘তামিল ফিল্ম অ্যাক্টিভ প্রডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশন’, ‘প্রডিউসার্স কাউন্সিল’ এবং ‘থিয়েটার ও মাল্টিপ্লেক্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন’ সরকারের কাছে শো সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছিল। তাঁদের মূল যুক্তি ছিল— বড় বাজেটের বা তারকাখচিত ছবি মুক্তির প্রথম কয়েকদিন টিকিটের মারাত্মক চাহিদা থাকে। নির্দিষ্ট পরিমাণ শো থাকায় বহু দর্শক টিকিট না পেয়ে নিরাশ হয়ে ফিরে যান। শোয়ের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে দর্শক যেমন সহজে টিকিট পাবেন, তেমনই পাইরেসির আশঙ্কাও অনেক কমবে।
১৯৫৭-র আইনে ঐতিহাসিক রদবদল
প্রসঙ্গতঃ, ১৯৫৭ সালের ‘তামিলনাড়ু সিনেমা আইন’ অনুযায়ী এতদিন প্রেক্ষাগৃহে দিনে সর্বোচ্চ চারটি করে শো দেখানোর নিয়ম ছিল। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর তা বাড়িয়ে প্রতিদিন পাঁচটি করা হয়েছিল। কিন্তু প্রযোজক, পরিবেশক ও হল মালিকদের ক্রমাগত আবেদন এবং বর্তমান বিনোদন বাজারের বিশাল চাহিদা বিবেচনা করে সেই সংখ্যা এবার বাড়িয়ে ছ’টিতে উন্নীত করা হলো।
লাফিয়ে বাড়বে বক্স অফিস কালেকশন
চলচ্চিত্র বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে তামিল চলচ্চিত্রের সামগ্রিক বক্স অফিস কালেকশন এক ধাক্কায় বহুগুণ বেড়ে যাবে। প্রথম সপ্তাহেই ছবির ব্যবসা নতুন রেকর্ড গড়তে পারবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সরকারি এই ঘোষণায় প্রযোজক, হল মালিক থেকে শুরু করে আমজনতা—সমস্ত স্তরেই এখন উৎসবের আমেজ।