“আমরা অধৈর্য হয়ে গেছি!” মৃতদের নামেও উঠছে বিল, স্বাস্থ্যসাথী কেলেঙ্কারিতে এবার ইডি-সিবিআই তদন্তের জোরালো ইঙ্গিত?

রাজ্য সরকারের অন্যতম স্বপ্নের প্রকল্প ‘স্বাস্থ্যসাথী’ ঘিরে এক অভূতপূর্ব ও নজিরবিহীন কেলেঙ্কারির অভিযোগ প্রকাশ্যে এল। আর এই বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন অন্য কেউ নন, খোদ রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। মৃত ব্যক্তির নামে বারবার বিল তৈরি, ভুয়ো উপভোক্তা সাজানো থেকে শুরু করে কোটি কোটি টাকা তছরুপের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে সরকারের নিজস্ব তদন্তে। ঘটনার গাফিলতি ও বেলাগাম দুর্নীতিতে অতিষ্ঠ হয়ে এবার পুরো বিষয়টি নিয়ে বিশেষ রিপোর্ট তৈরি করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
মৃত ব্যক্তি ২-৩ বছর পর ফের হাসপাতালে ভর্তি! স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের দুর্নীতি ঠিক কতটা গভীরে পৌঁছেছে, তার বিবরণ দিতে গিয়ে হতবাক করার মতো তথ্য সামনে এনেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তিনি জানান, “স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে ভর্তি হওয়ার পর হাসপাতালে কোনো রোগী মারা যাচ্ছেন। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে সেই একই মৃত ব্যক্তি আবার ২ থেকে ৩ বছর পর হাসপাতালে ভর্তি দেখাচ্ছেন! মৃতের নামেও বারবার লক্ষ লক্ষ টাকার বিল তৈরি হচ্ছে এবং বিমা সংস্থাও (Insurance Company) সেই চোখ বন্ধ করে পাস করে দিচ্ছে।”
তিনি ক্ষোভ উগরে দিয়ে সাফ বলেন, “ভুয়ো উপভোক্তা ও ভুয়ো বিলের ছড়াছড়ি দেখে আমরা অধৈর্য হয়ে গেছি। এই দুর্নীতির শেকড় অনেক দূর পর্যন্ত ছড়ানো।”
৩০ হাজার কোটি টাকার তছরুপ ও ৩০ লক্ষ ভুয়ো কার্ড: স্বাস্থ্যভবন সূত্রে পাওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক খবর অনুযায়ী, রাজ্যে প্রায় ৩০ লক্ষ ভুয়ো স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের সন্ধান মিলেছে। আর এই প্রকল্পের আড়ালে তছরুপ করা হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকারও বেশি সরকারি অর্থ।
মন্ত্রী এ দিন প্রকাশ্যেই আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, সর্ষের মধ্যেই ভূত লুকিয়ে থাকতে পারে। তাঁর কথায়, “থার্ড পার্টি ইনসিওরেন্স এজেন্সি থেকে শুরু করে আমাদের দফতর বা নীচুতলার আধিকারিক, হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স, এমনকি কিছু জায়গায় রোগীর পরিবারের লোকেরাও এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন।”
থার্ড পার্টি বা স্বাধীন তদন্ত সংস্থার দাবি: প্রশাসনিক এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন উঠলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগমের বিরুদ্ধে যদি কোনো অভিযোগ ওঠে, তবে তা মুখ্যসচিব বা মুখ্যমন্ত্রীই দেখতে পারেন। কারণ সচিব তাঁর এক্তিয়ারের ঊর্ধ্বে।
তবে এই দশকের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক দুর্নীতি রুখতে তিনি কড়া পদক্ষেপের পক্ষে সওয়াল করেছেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় জানান, “বিগত ১০ বছরে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে যে বিশাল অঙ্কের আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে, তার নিরপেক্ষ ও সঠিক তদন্তের স্বার্থে বিষয়টি কোনো বড় স্বাধীন তদন্তকারী সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার জন্য আমি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আর্জি জানাব।”
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই নজিরবিহীন বিস্ফোরক মন্তব্য এবং ৩০ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির ফাইল মুখ্যমন্ত্রীর কাছে যাওয়ার খবরে এখন রাজ্য রাজনীতি থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য প্রশাসনিক মহলে তীব্র তোলপাড় শুরু হয়েছে।