উৎসবের মুখেই আহমেদাবাদে ভয়াবহ কাণ্ড! নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাথ পিষে দিল ফরচুনার, প্রাণ গেল মা-ছেলের

দীপাবলির আনন্দের আমেজের মাঝেই মর্মান্তিক ও ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনা ঘটে গেল গুজরাতের আহমেদাবাদে। উৎসবের বাজার সামলাতে ফুটপাথে কেনাকাটার ভিড়ের মধ্যে আচমকা একটি দ্রুতগতির টয়োটা ফরচুনার (Toyota Fortuner) গাড়ি অনিয়ন্ত্রিতভাবে উঠে পড়ে পথচারীদের পিষে দিল। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই এক নারী ও তাঁর ১৫ বছরের নাবালক ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছেন আরও দুইজন ক্রেতা। ঘটনার পর ঘাতক গাড়ির চালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তল্লাশি চালিয়ে গাড়ি থেকে ৬টি সিল করা বিয়ারের ক্যান উদ্ধার করেছে তদন্তকারীরা।
কীভাবে ঘটল এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আহমেদাবাদের নিকোল এলাকার দেবাশ্য স্কুলের কাছে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। দীপাবলি উপলক্ষে ফুটপাথে সোফার কভার বিক্রি করছিলেন পুনমবেন নাগওয়াড়িয়া (৩০) এবং তাঁর ছেলে সাগর নাগওয়াড়িয়া (১৫)। সেই সময় কার্তিক ভাসোয়া (৩৪) এবং তাঁর স্ত্রী স্নেহলবেন সেখানে কেনাকাটা করার জন্য দাঁড়িয়েছিলেন।
অভিযোগ, ঠিক সেই সময় প্রচণ্ড গতিতে ছুটে আসা একটি টয়োটা ফরচুনার চালক আচমকা বাহনের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। গাড়িটি সজোরে উঠে পড়ে ফুটপাথে এবং সোজা পিষে দেয় সবাইকে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় পুনমবেন ও তাঁর ছেলে সাগরের। গুরুতর জখম অবস্থায় কার্তিক ও তাঁর স্ত্রীকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, বর্তমানে সেখানেই তাঁদের সংকটজনক অবস্থায় চিকিৎসা চলছে।
গাড়িতে উদ্ধার বিয়ারের ক্যান, চালকের রক্ত পরীক্ষা:
দুর্ঘটনার পরপরই ঘাতক গাড়ির চালক বিরলভাই সাবজিভাই চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গাড়িটিতে তল্লাশি চালিয়ে ৬টি সিল করা বিয়ারের ক্যান উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি তদন্তকারীদের। দুর্ঘটনার সময় অভিযুক্ত চালক মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন কি না, তা নিশ্চিত করতে তাঁর রক্তের নমুনা ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
অভিযুক্ত চালকের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং বিপজ্জনক ও মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর অপরাধে ‘মোটর ভেহিকলস আইন’-এর একাধিক কড়া ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। যেহেতু গুজরাতে মদ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, তাই গাড়ি থেকে মদ উদ্ধারের ঘটনায় ‘গুজরাত প্রোহিবিশন অ্যাক্ট’-এর অধীনেও নিকোল থানায় পৃথক একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সিসিটিভি ফুটেজ ও ফরেন্সিক তদন্ত:
আহমেদাবাদ পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এবং গাড়ির গতিবেগ নির্ধারণ করতে ওই এলাকার সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে ফরেন্সিক দলও নানা নমুনা ও প্রমাণ সংগ্রহ করেছে। ফরেন্সিক রিপোর্টের আসার পরই চালকের শারীরিক পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে।
দীপাবলির কেনাকাটার মুখে ফুটপাথে রুটিরুজির সন্ধানে আসা মা ও ছেলের এমন আকস্মিক ও হৃদয়বিদারক মৃত্যুতে গোটা আহমেদাবাদ ও নিকোল এলাকায় শোকের চরম ছায়া নেমে এসেছে।