“বিদেশে গোপনে কার সঙ্গে দেখা করেন?” প্রধানমন্ত্রীকে খোলা চ্যালেঞ্জ ছুড়তেই রাহুলকে ধুয়ে দিল বিজেপি!

‘রাষ্ট্রীয় একতা দিবস’-এ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দেওয়া ভাষণের পরেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল জাতীয় রাজনীতি। দেশে ‘বিদেশি ষড়যন্ত্র’ ও ‘ভারতবিরোধী শক্তি’ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সতর্কবার্তার জবাবে বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর দাবি, মোদি সরকার ও দেশের বর্তমান আর্থিক ব্যবস্থা মূলত ‘বিদেশি সহায়তার’ ওপর ভর করেই টিকে রয়েছে। এমনকি এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে মুখোমুখি প্রকাশ্য বিতর্কের খোলা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন কংগ্রেস সাংসদ।
রাহুলের এই চাঞ্চল্যকর আক্রমণের পরই রণংদেহি মেজাজে পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)। বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র সি আর কেশবন কংগ্রেস নেতাকে ‘ভণ্ড প্রতারক’ বলে কটাক্ষ করে অভিযোগ তোলেন যে, রাহুল নিজেই অতীতে বিদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপ চেয়েছিলেন।
প্রকাশ্য বিতর্কের চ্যালেঞ্জ ও রাহুলের তোপ:
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ একটি পোস্টে রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী মোদির উদ্দেশে লেখেন, “আমি আপনাকে এ বিষয়ে একটি প্রকাশ্য বিতর্কের চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি— যে কোনো মঞ্চে, যে কোনো সময়ে। সাহস থাকলে সামনে আসুন। কিন্তু আপনি আসবেন না, কারণ আপনার সম্পর্কে আমি যা যা জানি, তা নিয়ে আপনি আতঙ্কিত।”
উল্লেখ্য, জাতীয় একতা দিবসে প্রধানমন্ত্রী মোদি দেশবাসীকে সতর্ক করে বলেছিলেন, “কিছু বাধা সৃষ্টিকারী শক্তি দেশভাগের চক্রান্তে লিপ্ত। বিদেশে গোপনে কার সঙ্গে কে দেখা করছে? কারা ভারতের শত্রুদের ভাষায় কথা বলছে? আমাদের এই ধান্দাবাজদের চিনতে হবে এবং একজোটে তার মোকাবিলা করতে হবে।” প্রধানমন্ত্রীর সেই বক্তব্যের পরেই শুরু হয় এই তীক্ষ্ণ বাকযুদ্ধ।
লন্ডন সফরের পুরোনো বিতর্ক তুলে কড়া আক্রমণ:
কংগ্রেস নেতার মন্তব্যের কড়া জবাব দিতে গিয়ে বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র সি আর কেশবন ২০২৩ সালের মার্চ মাসে রাহুল গান্ধীর বিতর্কিত লন্ডন সফরের কথা মনে করিয়ে দেন। কেশবনের অভিযোগ, “রাহুল গান্ধী এমন এক ভণ্ড, যাঁর নিম্নমানের মিথ্যাগুলো সবসময় উল্টে তাঁর ওপরই গিয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত তাঁকে অপমানিত হতে হয়। ২০২৩ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগে লন্ডনে বক্তৃতা রাখার সময় রাহুল গান্ধী নিজেই ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামো রক্ষায় বিদেশি হস্তক্ষেপের আকুতি জানিয়েছিলেন।”
কেশবন সেই সময়কার একটি ভিডিও শেয়ার করেন, যেখানে রাহুল গান্ধীকে বলতে শোনা গিয়েছিল, ভারতীয় গণতন্ত্রের অবক্ষয় নিয়ে কেন আমেরিকা বা ইউরোপীয় দেশগুলো কোনো প্রতিক্রিয়া দিচ্ছে না।
জর্জ সোরোস, হিন্ডেনবার্গ ও সোনিয়া গান্ধীর যোগসূত্র নিয়ে প্রশ্ন:
কংগ্রেসকে কোণঠাসা করতে আন্তর্জাতিক কোটিপতি জর্জ সোরোসের প্রসঙ্গও টেনে আনে বিজেপি। বিজেপি মুখপাত্র বিস্ফোরক দাবি করেন:
কাশ্মীর বিতর্ক ও সোরোস সংযোগ: ‘ফোরাম অফ ডেমোক্র্যাটিক লিডার্স ইন দ্য এশিয়া-প্যাসিফিক’ নামক একটি সংস্থায় সোনিয়া গান্ধী সহ-সভাপতি ছিলেন। এই সংস্থাটি স্বাধীন কাশ্মীরের ধারণাকে সমর্থন করেছিল এবং তারা সোরোসের ফাউন্ডেশন থেকে অর্থ সাহায্য পেত বলে অভিযোগ।
হিন্ডেনবার্গ ও জার্মান যোগ: ভারতীয় অর্থনৈতিক কাঠামোকে টার্গেট করা মার্কিন সংস্থা ‘হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ’ এবং বার্লিনের হার্টি স্কুলের প্রধান কর্নেলিয়া ওলের সঙ্গে রাহুল ও সোনিয়া গান্ধীর ঘনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে বিজেপি। কারণ এই প্রতিষ্ঠানগুলিও সোরোসের অর্থায়নে পরিচালিত বলে দাবি শাসক শিবিরের।
রাহুলের গোপন বিদেশ সফর নিয়ে স্বচ্ছতার দাবি:
কংগ্রেস নেতার ঘনঘন ও অনুল্লিখিত বিদেশ সফর নিয়ে ফের প্রশ্ন তুলেছে পদ্ম শিবির। বিজেপি মুখপাত্রের কড়া বার্তা, “রাহুল গান্ধী লোকসভার বিরোধী দলনেতা হওয়া সত্ত্বেও প্রায়শই বিদেশে গিয়ে উধাও হয়ে যান কেন? সেখানে তিনি গোপনে কাদের সঙ্গে দেখা করেন এবং এই গোপন বৈঠকগুলোর আসল উদ্দেশ্যই বা কী? সমগ্র দেশ আজ এর স্পষ্ট উত্তর চায়।”